Geeta path : ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ‘চিকেন’ বিক্রি করায় কান ধরে ওঠবোস! ভাইরাল হেনস্তার ঘটনায় ধরা পড়ল তিন অভিযুক্ত!

ব্রিগেডের বড় অনুষ্ঠান মানেই জনসমুদ্র। আর ভিড় জমলেই সেখানে উপস্থিত থাকে নানা ধরনের খাবারের স্টল। মানুষের পছন্দ-অপছন্দ, রুচি, সংস্কার—সব মিলিয়ে এমন ভিড়ের অনুষ্ঠানে কখনও কখনও হঠাৎই তৈরি হয় অস্বস্তিকর পরিস্থিতি, যা পরে বড় বিতর্কের রূপ নেয়। গত রবিবারের ‘গীতাপাঠ’ অনুষ্ঠানও তার ব্যতিক্রম নয়। সাধারণ মানুষ যেখানে ধর্মীয় আবহে দিন কাটাতে এসেছিলেন, ঠিক সেই জায়গায় ঘটে গেল এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা, যার জেরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার ঝড়ও।

ঘটনাটি প্রথমে সাধারণ দর্শকরা বুঝেই উঠতে পারেননি। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই জানা যায়—দুই প্যাটিস বিক্রেতাকে ঘিরে হট্টগোল বাধে। দু’জনই এসেছিলেন ব্রিগেডে প্যাটিস বিক্রি করতে। তাঁদের মধ্যে একজন আরামবাগের বাসিন্দা শেখ রিয়াজুল, অন্যজন তপসিয়ার মহম্মদ সালাউদ্দিন। অভিযোগ, কয়েকজন যুবক তাঁদের প্রশ্ন তোলে—ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ‘চিকেন’ প্যাটিস কেন বিক্রি করা হচ্ছে? সেই প্রশ্নের জেরে মুহূর্তের মধ্যেই হেনস্তা শুরু হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিক্রেতাদের কান ধরে ওঠবোস করানো হয়, এমনকি খাবারও ফেলে দেওয়া হয়।

রিয়াজুল জানান, আচমকাই তাঁদের ঘিরে ধরে কয়েকজন যুবক। শুধু অপমানই নয়, তাঁর প্রায় তিন হাজার টাকার খাবার নষ্ট হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে শুরু করে। অনেকেই লিখেছেন—খাদ্যাভ্যাস সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়, তাই এভাবে কাউকে অপমান করা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ভিডিও ভাইরাল হতেই চাপ বাড়ে পুলিশ প্রশাসনের উপরও। কারণ ঘটনাটি ঘটেছে ময়দান থানা এলাকার মধ্যেই।

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরই ময়দান থানায় দুই আলাদা অভিযোগ দায়ের হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার গভীর রাতে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়—সৌমিক গোলদার, তরুণ ভট্টাচার্য এবং স্বর্ণেন্দু চক্রবর্তী। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সৌমিক উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙার বাসিন্দা, তরুণ হুগলির উত্তরপাড়া থেকে এবং স্বর্ণেন্দু অশোকনগরের। তিনজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং কী কারণে তাঁরা এমন আচরণ করলেন, তার তদন্তও এগোচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ Pakistan : প্রেস ব্রিফিংয়ে মহিলা সাংবাদিককে দেখে ‘ইশারা–হাসি’! পাক সেনার মুখপাত্রকে নিয়ে তীব্র ক্ষোভ—ভিডিও ভাইরাল হতেই পাকিস্তানে ‘গণতন্ত্র অপমানের’ তীব্র ঝড়!

ঘটনাটি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ জানান—“যাঁরা আমিষ খান না, তাঁরা কিনবেন না। কিন্তু বিক্রেতাকে মারধর করার অধিকার কারও নেই।” সিপিএমের তরফেও কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানানো হয়। বামপন্থী আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে এফআইআর করেন। গীতাপাঠের মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অশান্তি তৈরি হওয়ায় দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। এখন নজর তদন্তে—কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল এবং এর পিছনে কোনও সাংগঠনিক ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles