দেশের রাজনীতিতে আবারও উত্তপ্ত পরিবেশ। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ঠিক আগে একটি ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। দেশের সাংবিধানিক মর্যাদা, নারী সম্মান এবং আদিবাসী সমাজ—এই তিনটি বিষয়কে সামনে এনে শুরু হয়েছে কড়া রাজনৈতিক আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল এবং আলোচনা বেড়েছে।
শনিবার পশ্চিমবঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu)। আদিবাসী সম্প্রদায়ের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু রাজ্যে পৌঁছানোর পর তাঁকে স্বাগত জানাতে মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্য সরকারের কোনও মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ ওঠে। পরে এই বিষয়টি নিয়ে নিজেই আক্ষেপ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর বক্তব্য ঘিরেই শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা।
এই ঘটনার পরেই বিষয়টি নিয়ে সরব হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। সামাজিক মাধ্যমে তিনি বাংলায় লিখে জানান, ঘটনাটি ‘লজ্জাজনক এবং অভূতপূর্ব’। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জনজাতি সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা একজন রাষ্ট্রপতির প্রতি এই আচরণে দেশের মানুষ মর্মাহত। রবিবার একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি আরও কড়া ভাষায় বলেন, নারী দিবসের ঠিক আগের দিন একজন মহিলা রাষ্ট্রপতিকে অপমান করা হয়েছে, যা শুধু একজন ব্যক্তির নয়—সংবিধান এবং গণতন্ত্রের মর্যাদাকেও আঘাত করেছে।
আরও পড়ুনঃ PM Narendra Modi : “মমতা আমার বোনের মতো, তবু আমার উপর রাগ কেন”—দ্রৌপদী মুর্মুর আক্ষেপে তুঙ্গে বি*তর্ক! ‘রাষ্ট্রপতির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ’ অভিযোগ তুলে মমতা সরকারকে তীব্র কটাক্ষ মোদি সরকারের!
এই অভিযোগের জবাব দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর বক্তব্য, সেই সময় তিনি সাধারণ মানুষের দাবিতে আন্দোলনে বসেছিলেন, তাই ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিষয়টিকে অযথা রাজনৈতিক রং দেওয়া হচ্ছে। তাদের মতে, কেন্দ্র সরকার ভোটের আগে এই ঘটনাকে বড় করে দেখানোর চেষ্টা করছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, অতীতে সংসদ ভবনের উদ্বোধনের সময় রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ না জানিয়ে অপমান করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। তাঁর দাবি, এখন বাংলার ভোটের আগে রাষ্ট্রপতিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে একটি প্রশাসনিক ঘটনাকে ঘিরে এখন তা বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে, যা আগামী দিনে আরও তীব্র বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার