বর্তমানে টেলিভিশন জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পুষ্পিতা মুখার্জী (Pushpita Mukherjee)। বাংলা ধারাবাহিকে মা-কাকিমার চরিত্রে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছেন অভিনেত্রী। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। পুষ্পিতা মুখার্জির অভিনয়ের শুরুটা ছোটবেলায়। ৯০ এর দশকে একের পর এক বাংলা ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।
ধারাবাহিক ছাড়াও রেডিও নাটক, টিভি বিজ্ঞাপনেও কাজ করেছেন তিনি। রেডিও নাটক দিয়ে তাঁর (Pushpita Mukherjee) কর্মজীবনের শুরু। তারপরেই দূরদর্শনের ‘ছুটি ছুটি’ এক অনুষ্ঠানে সঞ্চালিকার ভূমিকায় অভিনয় শুরু করেন। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে ছুটির দিনেই প্রোগ্রামটি হত। টিভিতে কাজ করতে করতে ধারাবাহিকে কাজের সুযোগ পান। ইন্দ্রানী হালদারের বাবার ডিরেকশনে প্রথম ধারাবাহিকে কাজ করেন পুষ্পিতা। সেই ধারাবাহিকের নাম ছিল ‘নবীগঞ্জের দৈত’। সে বছর পর পর দুটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। লাঠি, বিয়ের ফুল ১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া এই দুটি ছবি ছিল সুপারহিট ছবি।
এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পরপর কাজ করতে থাকেন প্রভাত রায় থেকে শুরু করে তরুণ মজুমদারের সঙ্গে। ‘অধিকার’, ‘একাই একশো’, ‘দোসর’, ‘সাথী’, ‘সঙ্গী’ ‘নাটের গুরু’, ‘প্রেমী’, ‘আলো’ ইত্যাদি বহু ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি ধারাবাহিকেও কাজ করে জনপ্রিয়তা পান পুষ্পিতা। তার অভিনীত মেগা ধারাবাহিক ‘মনোরমা কেবিন’।
তাঁর (Pushpita Mukherjee) অভিনীত ধারাবাহিকগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘এক আকাশের নিচে’, ‘একদিন প্রতিদিন’, ‘সোহাগ জল’, ‘কাছে আয় সই’। আগের প্রজন্ম থেকে এ প্রজন্ম দাপিয়ে অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী। মাঝে বেশ কিছু বছর ধরে অভিনয় জগত থেকে দূরে সরে রয়েছেন তিনি। লাইট,ক্যামেরা অ্যাকশনের জগত থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন সংসার জীবনে। সংসারের সময় দেওয়ার জন্য নিজের ভালোবাসার জায়গা ছেড়েছিলেন। এতদিনের কেরিয়ার ছাড়তে দুবার ভাবেননি।
২০০৮ সালের ৩রা মে পুষ্পিতা বিয়ে করেন ত্রিদেব ঘোষকে। বিয়ের পর সংসার জীবনে জড়িয়ে পড়েন। একদিকে সংসার একদিকে কেরিয়ার। কোনটা বেছে নেবেন ঠিক করতে পারছিলেন না। পুষ্পিতা (Pushpita Mukherjee) ত্রিদেবের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। ছেলেকে মানুষ করার জন্যই অভিনয় জগত থেকে সরে আসেন। নিজের কেরিয়ারকে প্রায়োরিটি না দিয়ে সংসারে মন দেন। তাই আবার ছেলে বড় হতে অভিনয় জগতে ফিরে এসেছেন পুষ্পিতা।
স্বামী ত্রিদেব ঘোষ কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকেন। অভিনেত্রী (Pushpita Mukherjee) ব্যস্ত থাকেন তার কাজ নিয়ে তাই ছেলেকে ঠিকমতো মানুষ করতে পারছেন না। আর তার জন্যই টিভি দেখার নেশা থেকে মোবাইল ফোনের নেশা ঘিরে ধরেছে ছোট্ট ছেলেকে। লেখাপড়া করতে একদমই পছন্দ করেন না তার ছেলে। তাই ছেলেকে নিয়ে ভীষণ দুঃশ্চিন্তায় থাকেন পুষ্পিতা। এই দুশ্চিন্তার কথা আর দিদি নাম্বার ওয়ান এর মঞ্চে এসে অভিনেত্রী জানিয়ে ছিলেন। এমনকি সকল মায়েদের থেকে বাচ্চাদের ফোন থেকে দূরে সরানোর টিপস নিতে চেয়েছিলেন। জানা গিয়েছিল তিনি নাকি নানান কাজ করে থাকেন যাতে ছেলে ফোন থেকে দূরে হয় তবে লাভ হয়নি কিছুতেই।





