সৌজন্যের রাজনীতিতেই বিশ্বাসী তিনি। লোকসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতাকে প্রণাম করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। আবার সম্প্রতিই আরও এক তৃণমূল নেতার পা ছুঁতে দেখা যায় তাঁকে। এরই মাঝে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে বেশ সুখ্যাতিও করেছেন। এর জেরে নিজের দলকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছেন তিনি। আর এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকের জল্পনাও উস্কে দিলেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। এর ফলে ফের একবার তাঁর দলবদলের জল্পনা তৈরি হল।
একশো দিনের কাজের বকেয়া টাকা ও আবাস যোজনার টাকা বন্ধ করেছিল কেন্দ্র সরকার। এই নিয়ে আন্দোলন করতেও দেখা গিয়েছিল তৃণমূলকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার ১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকা কর্মীদের দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়াও হয় সেই টাকা। এবার এই একশো দিনের বকেয়া টাকা ও আবাস যোজনার টাকা নিয়ে সওয়াল করলেন সৌমিত্র খাঁ।
সৌমিত্র খাঁ-এর কথায়, ১০০ দিনের কাজের টাকা ও আবাস যোজনার টাকা নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখবেন। গতকাল, মঙ্গলবার তিনি এই বিষয়ে জানান, “আমরা চাই পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন হোক। গরিব মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা যেটা গোটা ভারতবর্ষ পাচ্ছে সেটা আমার এলাকার গরিব মানুষ যেন পায়। তার জন্য আমি আগামী ২৪ জুন প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেব। আমি চাই এখানে ১০০ দিনের কাজ চালু হোক। বাংলায় গরিব মানুষ ১০০ দিনের কাজ পাক”।
এর আগে আবার বঙ্গে লোকসভা ভোটে তৃণমূলের ফলাফল নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা শোনা গিয়েছিল সৌমিত্রের মুখে। আর এবার ফের একবার নিজের দলকে অস্বস্তিতে ফেলে সৌমিত্র জানান, তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। আর এর ফলে ফের একবার বেশ চাপের মুখে পড়ল গেরুয়া শিবির।
সৌমিত্র বলেন, “একশো দিনের কাজ, আবাস যোজনার মতো প্রকল্পের টাকা আটকে রেখে ভোটে ভাল ফল করা যায় না। আমি চারবার জিতেছি। তিনবার সাংসদ এবং একবার বিধায়ক। একজনকে মানুষ চারবার ভোট দিচ্ছে সেটা তো এমনি এমনি মুখ দেখে দিচ্ছে না। নিশ্চয়ই কাজ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখে দিচ্ছে। শুধুমাত্র বিরোধীদের মতো কথাবার্তা বলে, ১০০ দিনের টাকা আটকে, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার কাজ না করে ভাল ফল হয় না। এবার আমাদের অন্যভাবে ভাবতে হবে”।
বিজেপি সাংসদের এহেন মন্তব্যের কারণে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ গুঞ্জন শুরু হয়েছে। যদিও সৌমিত্র বলেছেন, “আমি বিজেপির প্রতীকে জিতেছি। সেই প্রতীকের অমর্যাদা আমি করব না। দলের কর্মীদের অমর্যাদা করব না। তবে রাজ্য নেতৃত্বের উপরে আমার রাগও নেই, ভালবাসাও নেই। কারণ বৃদ্ধদের উপরে রাগ করা যায় না। আর মুখ্যমন্ত্রী যদি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন, তাহলে বিষ্ণুপুর, বাঁকুড়ার উন্নয়নের স্বার্থে আমিও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে পারি। মুকুটমণিপুরে, বাঁকুড়া–রানিগঞ্জ রুটে রেলপথের আবেদন করব। দুর্লভপুর পর্যন্ত যাতে দ্রুত ট্রেন চলে তার জন্য রেলমন্ত্রীকে জানাব। আমি উন্নয়ন চাই”।





“হিরণের বাড়িতে দু’টো বউ, সোহমের কিন্তু একটাই বউ…” দলীয় প্রার্থীর প্রশংসা করে, বিপক্ষ তারকা প্রার্থীকে খোঁচা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের! নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসকদল বনাম বিজেপির সংঘাতে উত্তেজনা তুঙ্গে!