ভারতের রাজনীতিতে (Indian politics) বিশ্বাসঘাতকতা নতুন কিছু নয়। যুগ যুগ ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর অন্দরমহলে লুকিয়ে থাকে এমন কিছু চরিত্র, যারা বাইরের মুখে দলের প্রতি আনুগত্য দেখালেও, ভিতরে ভিতরে অন্য কোনও উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করেন। মহাভারতে যেমন কর্ণ কৌরবদের হয়েও পাণ্ডবদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছিলেন, তেমনই রামায়ণে বিভীষণ লঙ্কায় থেকেও রামের প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন। ঠিক তেমনই, দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলোর অন্দরেও এমন বিশ্বাসঘাতকেরা লুকিয়ে থাকেন, যারা দলের ছত্রছায়ায় থেকেও প্রতিপক্ষের হয়ে গোপনে কাজ করেন।
এমনই বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ এবার উঠেছে কংগ্রেসের অন্দরে। দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসের দুর্বলতার প্রধান কারণ হিসাবে বারবার উঠে এসেছে অন্তর্কলহ ও বিশ্বাসঘাতকতার প্রসঙ্গ। কংগ্রেসের শক্তি যখনই বাড়তে শুরু করে, তখনই দল ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দেয়। নির্বাচনের সময়ও বহু নেতা প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঠিক এমনই পরিস্থিতির মোকাবিলায় এবার কঠোর অবস্থান নিতে চলেছেন কংগ্রেস সাংসদ ও প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী।
শনিবার গুজরাটে কংগ্রেসের কর্মীসভায় উপস্থিত হয়ে রাহুল গান্ধী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, কংগ্রেসে বিশ্বাসঘাতকদের কোনও জায়গা নেই। তাঁর দাবি, বহু নেতা কংগ্রেসে থেকেও গোপনে বিজেপির হয়ে কাজ করছেন। আর এই বিশ্বাসঘাতকতাই দলের ভরাডুবির অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, “গুজরাট কংগ্রেসে দুই ধরনের নেতা রয়েছেন—একদল সত্যিকারের জনগণের পাশে থাকেন, আরেকদল সাধারণ মানুষের থেকে দূরত্ব বজায় রাখেন। গুজরাটের মানুষের কাছে পৌঁছতে হলে এই দুই দলকে আলাদা করতে হবে। প্রয়োজনে ১০, ১৫, ২০ বা ৫০ জনকে দল থেকে বের করে উদাহরণ তৈরি করতে হলেও আমরা পিছিয়ে যাব না।”
কংগ্রেসের মধ্যে থেকেই যারা বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, তাদের উদ্দেশে রাহুলের কড়া বার্তা—“যারা মনে করেন বিজেপির সঙ্গে সমঝোতা করে চলবেন, তারা দয়া করে নিজেই দল ছেড়ে চলে যান। কারণ আমরা বিশ্বাসঘাতকদের দলে রাখতে চাই না।” শুধু তাই নয়, বিজেপির স্বভাব বোঝাতে গিয়ে রাহুল বলেন, “যারা বিজেপির হয়ে কাজ করছেন, মনে রাখবেন, ওরা সুযোগ পেলেই আপনাদের ছুঁড়ে ফেলে দেবে।”
আরও পড়ুনঃ ‘শিরদাঁড়া সোজা থাকলে কুপ্রস্তাব আসে না’- কুপ্রস্তাব আসলে সেটা মেয়েদেরই দোষ! বিস্ফোরক মন্তব্যের জেরে সমালোচনার মুখে মমতা শঙ্কর!
রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের পর কংগ্রেসের অন্দরেই অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, কিছু নেতার বিরুদ্ধে এই কঠোর অবস্থান দলের মধ্যে আরও বিভাজন তৈরি করতে পারে। তবে রাহুল গান্ধী তাঁর অবস্থান থেকে একচুলও নড়তে নারাজ। অন্যদিকে, বিজেপি এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। বিজেপি নেতারা বলেছেন, “গুজরাটে কংগ্রেসের শোচনীয় অবস্থা নিয়ে রাহুল গান্ধী নিজেই ব্যঙ্গ করছেন। উনিই বিজেপির সবচেয়ে বড় সম্পদ।” এখন দেখার, রাহুলের এই হুঁশিয়ারির পর সত্যিই কংগ্রেসের শুদ্ধিকরণ হয় কি না, নাকি আরও অশান্তির সুর শোনা যায় দলের অন্দরে!





