বিশ্বজুড়ে নারী অধিকার নিয়ে যতই আলোচনা হোক, বাস্তবে কিন্তু সমাজের মানসিকতা বদলাচ্ছে না। আজও অনেক ক্ষেত্রেই ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি বা কুপ্রস্তাবের জন্য মহিলাদেরই কাঠগড়ায় তোলা হয়। প্রশ্ন ওঠে, তাঁরা কী পোশাক পরেছিলেন? কত রাতে বাইরে ছিলেন? তাঁদের ব্যবহার কেমন ছিল? অথচ, অপরাধীর দিকেই আঙুল ওঠা উচিত, সেই দিকেই যেন সবচেয়ে কম মনোযোগ থাকে!
নারী দিবসের ঠিক পরের দিনও এই বাস্তব পরিস্থিতি বদলায়নি। বহু ক্ষেত্রেই শোনা যায়, কর্মক্ষেত্রে বা ব্যক্তিগত জীবনে মহিলারা কুপ্রস্তাবের সম্মুখীন হন। সমাজের বহু ক্ষেত্রেই এখনো মনে করা হয়, যদি কোনও মহিলা কুপ্রস্তাব পান, তাহলে দোষটা তাঁরই। হয়তো তিনি সুযোগ দিয়েছেন, হয়তো তিনি নিজেই এর জন্য দায়ী! এই মানসিকতার বিরুদ্ধেই সরব হলেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী মমতা শঙ্কর।
নারী দিবস উপলক্ষে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই বিতর্কিত বিষয় নিয়ে মুখ খুললেন মমতা শঙ্কর। তাঁর মতে, নিজের আত্মসম্মান এবং ব্যক্তিত্ব বজায় রাখলে কেউ কুপ্রস্তাব দেওয়ার সাহসই পাবে না। তাঁর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি রাত জেগে শ্যুটিং করেছি, বহু মানুষের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি, আড্ডা দিয়েছি। কিন্তু কেউ কখনও খারাপ কিছু বলার সাহস দেখায়নি।” তাঁর মতে, মহিলাদের চারপাশে ব্যক্তিত্বের এমন এক ‘বেড়াজাল’ তৈরি করতে হবে, যাতে অন্যরা সহজে তাঁকে হেয় করতে না পারে। কিন্তু আজকের দিনে কেন অনেকেই এই সীমারেখা রাখতে পারছে না? কেন মহিলাদের প্রতি অপরাধ বাড়ছে?
মমতা শঙ্করের মতে, এই সমস্যার মূলে রয়েছে লোভ এবং লাগামছাড়া চাহিদা। তিনি বলেন, “লোভ, চাহিদা বাড়ছে মানুষের। তাঁরা যদি নিজেদের সংযত রাখতে পারেন, তাহলে অনেক কিছুর থেকেই বাঁচা যায়।” অর্থাৎ, অপরাধীদের দিকেই আঙুল তুলতে হবে, তাঁদের মানসিকতাই বদলানো দরকার। কিন্তু সমাজের একাংশ এখনও মনে করে, সমস্যার সূত্র মহিলারাই।
আরও পড়ুনঃ আর নয় কোলেস্টেরলের ভয়! মাত্র এক ইনজেকশনে সারা জীবনের জন্য মুক্তি, কী বলছেন বিজ্ঞানীরা?
নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে মমতা শঙ্কর বলেন, “কঠিন পরিস্থিতিতে পড়লেও বুদ্ধির জোরে সেটা কাটিয়ে উঠতে হবে। নিজেকে শক্ত রাখতে হবে।” তাঁর মতে, নিজের মর্যাদা ও আত্মসম্মান ধরে রাখলে কেউ সহজে সুযোগ নিতে পারবে না। তাঁর এই বক্তব্য ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
নারী দিবস এলেই সমানাধিকারের বুলি আওড়ানো হয়, কিন্তু বাস্তবে বদল আসে ক’টা? মমতা শঙ্করের বক্তব্য সমাজের বাস্তব ছবিটাই তুলে ধরেছে। এখনও বহু নারীকে প্রতিদিন কুপ্রস্তাব, শ্লীলতাহানি বা হয়রানির সম্মুখীন হতে হয়। তাহলে কি পরিবর্তনের দায় শুধুই মহিলাদের? নাকি সমাজকেও এবার পাল্টাতে হবে? প্রশ্ন থেকেই যায়!





