সোনার পর রুপোও বহু বিনিয়োগকারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারে রুপোর দরে ওঠাপড়া লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই এখন প্রশ্ন করছেন—রুপোর দাম কি আগের সর্বোচ্চ স্তরে ফিরবে নাকি আরও কমে যাবে? বাজারে এমন অস্থিরতার মধ্যেই বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, আগামী দুই বছরে রুপোর দর ব্যাপকভাবে পতনের মুখে পড়তে পারে।
শুক্রবার এশিয়ার বাজারে রুপোর দর প্রবলভাবে কমতে দেখা গেছে। কমেক্স (COMEX) বাজারে খোলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই রুপোর দাম প্রতি আউন্স ৬৩.৯০০ মার্কিন ডলারে নেমে আসে। একই সময় এমসিএক্স (MCX)-এ রুপোর দর প্রতি কেজি ২,২৯,১৮৭ টাকায় নেমে যায়। যদিও কিছু সময়ের জন্য ক্রেতাদের আগ্রহ দেখা যায়, দিনের শেষে দেশের বাজারে রুপোর দাম প্রতি কেজি ২,৪৮,৮৯৭ টাকায় স্থিত হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উত্থান অল্পকালীন এবং দাম আগের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আর পৌঁছাবে না।
রুপোর দর কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা দুইটি মূল ফ্যাক্টর উল্লেখ করেছেন। সেবি-নিবন্ধিত বিশেষজ্ঞ অনুজ গুপ্তা বলেন, “আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা শুরু হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রায় মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে। এর ফলে মূল্যবান ধাতুর, বিশেষ করে সোনা ও রুপোর চাহিদা কমেছে। সেই সঙ্গে বাজারে মুনাফা তোলার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।” অতীতের ইতিহাসও এটি প্রমাণ করে; ১৯৮০ এবং ২০১১ সালে রুপোর দাম সর্বোচ্চ স্তর থেকে প্রায় ৭৫ শতাংশ কমে গিয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি বিবেচনা করে পেস ৩৬০-এর অমিত গোয়েল বলেছেন, “রুপোর দাম প্রতি আউন্স ১২১ ডলারের সর্বোচ্চ দর থেকে ৭৫-৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। তবে এই পতন একটানা হবে না; বাজারে ওঠানামা চলমান থাকবে।” তিনি আশা করছেন, আগামী দুই বছরে রুপোর দাম প্রতি আউন্স ২৫ থেকে ৩০ ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল থাকবে।
আরও পড়ুনঃ US Map Message to Pakistan : ভারতের সঙ্গে চুক্তির পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক বার্তা! PoK মানচিত্রে অন্তর্ভুক্তি পাকিস্তান ও চীনের জন্য বড় ধাক্কা!
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। যে কেউ রুপো বা অন্যান্য মূল্যবান ধাতুতে বিনিয়োগ করতে চান, তাদের উচিত বাজারের ওঠাপড়া ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মনোযোগ দিয়ে দেখা। রুপোর দাম হঠাৎ কমলেও ভবিষ্যতে তা ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হতে পারে, কিন্তু এখন সতর্ক থাকা সবচেয়ে জরুরি।





