ভোটের আগে এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখা যাচ্ছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। বছরের পর বছর যাঁরা বৃদ্ধাশ্রমের চার দেওয়ালের মধ্যে একা জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন, হঠাৎই তাঁদের খোঁজ নিচ্ছেন ছেলে-মেয়েরা! কারও ফোনে আবার বাজছে বহুদিনের নীরব রিংটোন, কেউ বা সরাসরি ছুটে যাচ্ছেন দেখা করতে। কারণ একটাই, শুরু হয়েছে SIR (Systematic Identification of Residents) প্রক্রিয়া। আর এই প্রকল্পে নাম না থাকলে, ভোটার তালিকা থেকে উধাও হতে পারে পুরো পরিবারেরই নাম।
নদিয়ার এক বৃদ্ধাশ্রমের সম্পাদক গৌরহরি সরকার জানালেন, “এখানে প্রায় ৪০ জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা থাকেন। অনেকে নদিয়া, বর্ধমান এমনকি কলকাতা থেকেও এসেছেন। বেশিরভাগেরই সন্তানরা এতদিন কোনও খোঁজ রাখতেন না। কিন্তু SIR শুরু হতেই আচমকা সেই ফোনগুলো আবার বেজে উঠছে। কেউ কেউ তো দৌড়ে চলে আসছেন বাবা-মায়ের দেখা পেতে।”
পাঁচ বছর ধরে আশ্রমে কর্মরত রুমা দেবনাথও একই অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন। তাঁর কথায়, “যাঁরা আগে কখনও খোঁজ নিতেন না, এখন প্রায় প্রতিদিন ফোন করছেন। যেন এক নতুন সম্পর্কের শুরু, তবে সেটা নিঃস্বার্থ নয়। প্রয়োজন মিটলেই হয়তো আবার আগের মতোই নীরবতা নামবে।”
আশ্রমেরই এক প্রবীণ সুভাষ সাহা জানান, “ছেলের বৌদের সঙ্গে মনোমালিন্য ছিল, তাই সম্মান রেখে এখানে চলে এসেছি।” আরেকজন বাসিন্দা প্রশান্ত হালদার বলেন, “বিয়ে করিনি। ভাইপো রাখেনি, তাই বৃদ্ধাশ্রমেই আশ্রয় নিয়েছি। এখন সেই ভাইপো-ই ফোন করছে!” যদিও তাঁরা জানেন, এই ‘স্নেহ’ আসলে প্রয়োজনের, তবুও তাঁদের মুখে শান্তির হাসি।
আরও পড়ুনঃ Partha Chatterjee : “আমি দোষী নই, তৃণমূল কেন পাশে দাঁড়াল না?”—জামিনে মুক্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক প্রশ্ন, নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের ইঙ্গিত কি বেহালা পশ্চিমে?
ভোটের তালিকায় নাম টিকিয়ে রাখতে হোক বা আত্মসমালোচনায় ভর করে, সন্তানদের এই ফিরে আসা বৃদ্ধাশ্রমের আবহে যেন নতুন হাওয়া বইয়ে দিয়েছে। বাবা-মায়ের চিরন্তন প্রার্থনা আজও সেই একই “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে।”





