আজ ২৭শে জুন। কিংবদন্তী সুরসাধক আর ডি বর্মণের ৮৪তম জন্মবার্ষিকী। তিনি যে শুধু একজন সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন তা নয়, ছিলেন ভারতীয় সঙ্গীত ও চলচ্চিত্র জগতের এক অসামান্য স্রষ্টাও।

শচীনদেব বর্মণের একমাত্র ছেলে আর ডি বর্মণ অর্থাৎ রাহুল দেব বর্মণ। তিনি পঞ্চম নামেও বিশেষ পরিচিত। অভিনেতা অশোক কুমার তাঁকে পঞ্চম নামটি দেন। মাত্র ন’বছর বয়সেই তিনি নিজের প্রথম গান তৈরি করেন।

ভারতীয় সঙ্গীত জগতের নানান বাদ্যযন্ত্র, ছন্দ নিয়েও নানান পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়েছেন তিনি। তাঁর এই ‘এক্স’ ফ্যাক্টরগুলিই তাঁকে অন্যদের থেকে অনেকটা আলাদা করে তোলে। ‘হ্যায় আপনা দিল তো আওয়ারা’ গানটি কম্পোজ করেন শচীনদেব বর্মণ। এই গানে নিজে হারমোনিকা বাজিয়েছিলেন আর ডি বর্মণ।

তিনিই প্রথম ইলেকট্রনিক অর্গানের সঙ্গে ভারতীয় শ্রোতাদের পরিচয় করান। ‘ও মেরে সোনা রে’ গানটি তৈরি করেছিলেন রক মিউজিকের আঙ্গিকে। আবার চেলো ও বাজ গিটারের সুরও তাঁর কাছেই প্রথম শোনা যায়। এছাড়াও লাতিন, পশ্চিমী, আরবি ঘরানার সুর ব্যবহারের জন্য বিদেশ থেকে অনেক বাদ্যযন্ত্র আনিয়েছিলেন আর ডি বর্মণ। কাঁচের গ্লাসে চামচ ঠুকেই কম্পোজ করেন ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে জো দিল কো’ গানটি।

জল ভর্তি বোতলের শব্দ ব্যবহার করে রেকর্ড করেন ‘ও মাঝি রে’ গান। আবার খালি বোতলে ফুঁ দিয়ে সাউন্ড তৈরি করেন। নিজের জীবনের অনেক ঘটনা থেকেও পেশাদার জীবনে গান বেঁধেছিলেন আর ডি বর্মণ।

তাঁর প্রথম স্ত্রী রিতা প্যাটেলের সঙ্গে তাঁর পরিচয় দার্জিলিং-এ। ১৯৬৬-তে বিয়ে করেন তারা। তবে ১৯৭১ সালে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ১৯৭২ সালে ‘মুসাফির হো ইয়ারো’ গানটি লেখেন ‘পরিচয়’ ছবির জন্য। ১৯৮০ সালে বিয়ে হয় কিংবদন্তী গায়িকা আশা ভোঁসলের সঙ্গে।

জানা যায়, ‘সনম তেরি কসম’ ছবির গান রিহার্সালের সময় নিশা নামে এক কোরাস শিল্পী ঢুকতেই তিনি মজা করে বলেছিলেন, ‘নিশা আহা হা আহা হা’। সেই শব্দগুলোই পরে তিনি গানে ব্যবহার করে সুপারহিট গান বানিয়েছিলেন।

‘বচনা অ্যায় হাসিনো’, ‘দম মারো দম’, ‘গুলাবি আঁখে জো তেরি দেখি’ মতো গান যা বর্তমানে রিমিক্সেও সেরা। এসব গানের সৃষ্টি তো পঞ্চমেরই হাতে। প্রায় ৩৩১টি ছনির জন্য গান কম্পোজ করেছেন তিনি। ছবিতেও অভিনয় করেছেন আর ডি। অভিনয় করেছিলেন ‘ভূত বাংলা’ ও ‘প্যায়ার কা মৌসম’ ছবিতে। রিয়্যালিটি শো থেকে অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান, আজও তাঁর গানেই রেডিও স্টেশনগুলোর শো শুরু হয়।





