এমনিতেই বেশ কিছু বিজেপি নেতা ইতিমধ্যেই দাবী করেছেন যে রাজ্য সরকার উত্তরবঙ্গকে নানাভাবে বঞ্চিত করে। এই কারণে বিজেপি সাংসদ জন বারলা আগেই দাবী তুলেছিলেন উত্তরবঙ্গ ভাগের। উত্তরবঙ্গকে যাতে পৃথক রাজ্য বাআ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা যায়, এমন দাবী তোলেন তিনি। এবার বিধায়ক শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরীর কাজেও যেন মনে হচ্ছে যে সত্যিই উত্তরবঙ্গ বঞ্চিত হচ্ছে।
আসলে, সম্প্রতিই মালদহের ইংরেজবাজারের বিজেপি বিধায়ক শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী জোড়া চিঠি লেখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। সেই চিঠিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আর্জি জানিয়েছেন যাতে তিনি পিএম কেয়ার ফান্ড থেকে মালদহ হাসপাতালে একটি কার্ডিয়াক ক্যাথ ল্যাব ও হার্ট কেয়ার ইউনিট তৈরি করে দেন।
এই চিঠিতে শ্রীরূপা দাবী করেছেন যে মালদহ হাসপাতালে শুধু এই জেলার মানুষই নন, বরং বিহার, ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্য এমনকি প্রতিবেশি রাষ্ট্র নেপাল, বাংলাদেশ থেকেও নানান মানুষ চিকিৎসা করাতে আসেন। তাই এই হাসপাতালের উন্নতি প্রয়োজন। এই কারণেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে টাকা চেয়ে সাহায্যের আর্তি জানান।
এই চিঠিতে শ্রীরূপা আরও উল্লেখ করেন যে করোনাকালে অনেক মানুষেরই হার্টের সমস্যা বাড়ছে, তাই এই সময় এই হার্ট কেয়ার ইউনিটের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
অন্য একটি চিঠিতে তিনি আরও একটি আর্জি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এই মালদহ হাসপাতালেই যাতে শিশুদের জন্য একটি কোভিড ওয়ার্ড চালু করা যায়, সেই আর্তিও জানান বিধায়ক। এই কোভিড ওয়ার্ডে ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা ও অক্সিজেন কন্সেন্ট্রেটরের ব্যবস্থাও চেয়েছেন শ্রীরূপা।
তবে শুধু প্রধানমন্ত্রীই নয়, নতুন অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার কাছেও একটি চিঠি দেন শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী। চিঠিতে তিনি লেখেন, ইংরেজবাজারে যে মালদহ বিমানবন্দর রয়েছে তা যাতে দ্রুতই কার্যকর করা হয়। তিনি এও বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘উড়ান’ প্রকল্পের আওতায় যাতে এই বিমানবন্দরকেও আনা হয়।
বিধায়ক জানান যে মালদহের সঙ্গে মুর্শিদাবাদ, কাটিহার, সাহিবগঞ্জ ও বাংলাদেশের মানুষও যুক্ত। তাই এই জায়গায় বিমান পরিষেবা কার্যকর করা খুবই প্রয়োজন। শুধুমাত্র মালপত্র আদান-প্রদানের জন্য নয়, জরুরীকালীন পরিস্থিতিতে রোগীদের অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও মালদহে বিমানবন্দর কার্যকর করা দরকার।
চিঠির শেষে শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী এও জানান যে তিনি এই অনুরোধ অনেকদিন যাবতই করে আসছেন। এই ব্যবস্থা যদি কার্যকর হয় তাহলে নতুন ভারত গড়ার ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হবে বলেও মনে করেন মালদহের ইংরেজবাজারের বিধায়ক।





