করোনা আবহের জেরে এবার পিছিয়ে গেল চার পুরনিগমের ভোট। আজ, শনিবার এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ২২শে জানুয়ারি ভোট হওয়ার কথা ছিল চার পুরনিগমে। সেই ভোটই পিছিয়ে ১২ই ফেব্রুয়ারি করা হল। আগামী ২৭শে ফেব্রুয়ারি ১০৮টি পুরসভায় যে বকেয়া ভোট রয়েছে, তা হবে বলেই এখনও পর্যন্ত জানা যাচ্ছে। এ নিয়ে অবশ্য রাজ্য নির্বাচন কমিশন কিছু বলে নি।
করোনার জেরে প্রায় তিন সপ্তাহ পিছিয়ে গেল ভোট। ১২ই ফেব্রুয়ারি ভোট হবে দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি পুরনিগম, হুগলি জেলার চন্দননগর পুরনিগম, উত্তর ২৪ পরগনার বিধাননগর পুরনিগম ও পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল পুরনিগমে। ভোটগ্রহণ শুরু হবে সকাল ৭টা থেকে এবং তা চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
এই ভোটের জন্য নতুন করে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই বলেই জানানো হয়েছে। আদালতের রায়কে সম্মান জানাতেই রাজ্য কমিশনের এই সিদ্ধান্ত বলে জানা যাচ্ছে। ১২ই ফেব্রুয়ারি ভোট হওয়ায় এদিনের ৭২ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত ভোটের প্রচার চালানো যাবে বলেও জানিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।
ভোট পিছিয়ে গেলে ভোটের প্রচারে অনেকটা সময় পাচ্ছেন প্রার্থীরা। ভোট প্রচার মানেই মানুষের জমায়েত। এমন অবস্থায় করোনাকে ঠেকানোর যে প্রয়াস তা সম্পন্ন হবে কী করে, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিশেষজ্ঞ মহলে। রাজ্য কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে যে এই বিষয়ে তারা কড়াভাবে নজরদারি চালাবেন। ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে শো-কজের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রচারের জন্য কমিশনের তরফে গাইডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তা মেনেই সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলিকে প্রচার চালাতে হবে।
উল্লেখ্য, আজ, শনিবার সকালেই নবান্নের তরফে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে জানানো হয় কমিশন যদি চায় তাহলে ভোট পিছিয়ে দিতে পারে, তাতে রাজ্যের কোনও আপত্তি নেই। এর পাশাপাশি রাজ্য এও জানায় যে করোনা মোকাবিলায় সবরকম ব্যবস্থা করছে তারা। তবে বিরোধীদের তরফে আগেই ভোট পিছিয়ে দেওয়ার দাবী তোলা হয়েছিল। এমনকী, এদিন রাজ্যের চিঠি দেওয়া নিয়েও চরম কটাক্ষ শানিয়েছিলেন বাম-কংগ্রেস নেতারা।
এই বিষয়ে সিপিএম নেতা বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, “আদালতের নির্দেশে স্পষ্ট ভোট পিছিয়ে দিতে হবে। যে কাজটা সরকারের করা উচিৎ ছিল সেটা আদালতে গিয়ে করাতে হচ্ছে। এখন রাজ্য চিঠি দিল কি না দিল তার কোনও আলাদা গুরুত্ব আমি দেখি না। এটা তো করতেই হবে”।
অন্যদিকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর বলেন, “রাজ্য মনে করলে ভোট করতে পারে। রাজ্য মনে করলে ভোট না করাতে পারে। মাঝখান থেকে নির্বাচন কমিশনকে এগিয়ে দিয়ে বলি পাঁঠা করার কোনও মানেই নেই”।





