ধর্ষণের ঘটনায় ভারতবর্ষে এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বের মধ্যে নিন্দনীয় একটা স্থান দখল করে আছে। প্রায় প্রতি দিনই গোটা দেশের কোথাও না কোথাও যৌন হেনস্থা হয় মহিলাদের প্রতি। আর কিছু কিছু ঘটনা এতটাই নৃশংস হয়, যা নাড়িয়ে দেয় গোটা দেশকে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হাথরস ধর্ষণকাণ্ডও সেরকমই একটি বিভৎস ঘটনা।
ধর্ষণ থেকে নিস্তার পাওয়ার উপায় হিসেবে মহিলাদের জন্য ২০১৭ সালে এক বিশেষ ধরণের জুতো বানিয়েছিলেন হায়দ্রাবাদের সিদ্ধার্থ মণ্ডল নামে এক ছাত্র। যে জুতোর মধ্যে বিশেষ সুরক্ষা ডিভাইস থাকলেও সেই জুতো থেকে SOS পাঠানোর উপায় ছিলনা।
সেই অসুবিধাগুলোকেই দূর করে আরও আধুনিক টেকনোলজি ব্যবহার করে নতুন এক ধরণের জুতো আবিষ্কার করলেন গুসকরার গোবিন্দপুর সেফালি মেমোরিয়াল পলিটেকনিক কলেজের ল্যাবরেটরি অ্যাসিস্ট্যান্ট সৈয়দ মোশারফ হোসেন।

মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন হাথরসের ঘটনার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে অত্যন্ত ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি মনে প্রাণে চেয়েছিলেন কীভাবে মহিলাদের উপর থেকে বিপদ কমানো যায়, বা তাদের উপর যৌন হেনস্থা বন্ধ করা যায়। আর এই চিন্তা থেকেই তিনি আবিষ্কার করে ফেলেন বিশেষ ধরণের এক জুতো। যে জুতোর মধ্যে থাকছে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস। জুতোর মধ্যে থাকবে একটি সুইচ। যে সুইচ প্রেস করার সঙ্গে সঙ্গে প্রতি ৩০ সেকেন্ড অন্তর নির্দিষ্ট ৫টি নম্বরে চলে যাবে বিপদ বার্তা বা SOS। শুধু তাইই নয়, আততায়ী আক্রমণ করার সঙ্গে সঙ্গে প্রতি ২ সেকেন্ড অন্তর এই ডিভাইস থেকে ১২০০ ভোল্টের বিদ্যুৎ পরিবাহিত হতে থাকবে তার শরীরে। আর যে পাঁচটি নম্বরে বিপদবার্তা যাবে, সেখানে আধুনিক জিপিএস পদ্ধতির সাহায্যে লোকেশনও পৌঁছে যাবে। যার ফলে কোথায় আক্রান্ত হচ্ছেন ওই মহিলা তার পূর্ণ বিবরণ পৌঁছে যাবে ওই নির্দিষ্ট নম্বরগুলিতে। যার ফলে বিপদ কিছুটা হলেও কমতে পারে।

মোশারফ হোসেনের এই আবিষ্কারে কার্যতই খুশি তাঁর সহকর্মী থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যরাও। ইতিমধ্যেই মোশারফ তাঁর বোনের মাধ্যমে এই জুতোর পরীক্ষা করেছেন। এবং তারপর কার্যকর দেখে তিনি এই আবিষ্কারের পেটেন্টের জন্য আবেদন করেছেন ডবলু বি এস সি এস টিতে। এখন এই আবিষ্কার মহিলাদের জন্য কতটা সাহায্যকারী হয়, সেই আশাতেই রয়েছেন পশ্চিম বর্ধমানের লাউদহার তিলাবনি গ্রামের ছেলে, এবং হুগলির ব্যাণ্ডেলের ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে বি-টেক পাস করা ছাত্র সৈয়দ মোশারফ হোসেন।





