নববিবাহিত কোনও দম্পতির বাড়িতে কার্তিক পুজোর আগে কার্তিক ঠাকুর ফেলার রীতি রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে এই রীতি চলে আসছে। এবার এই কার্তিক ঠাকুর ফেলতে গিয়েই বড় বিতর্কে জড়ালেন খোদ তৃণমূল কাউন্সিলর। তা নিয়ে কটাক্ষ করতে একটুও দেরি করল না বিজেপি।
ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির বৈদ্যবাটিতে। সেখানকার পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর পৌষালি ভট্টাচার্য এলাকারই বাসিন্দা শ্যামল মাইতি নামের একজনের বাড়িতে কার্তিক ফেলেছেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর অনুগামীরাও। এই ঠাকুরের সঙ্গে একটি চিঠিও দেন কাউন্সিলর। আর সেই চিঠিকে ঘিরেই ছড়াল তুমুল বিতর্ক।
এই ছবি নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন তৃণমূল কাউন্সিলর। আর এরপর থেকেই কটাক্ষ ধেয়ে এসেছে তাঁর দিকে। তিনি কাউন্সিলরের প্যাডেই সেই চিঠি লিখেছেন। তাতে লেখা, ‘পুরসভা অনুমোদিত’। চিঠিতে কার্তিকের বয়ানে লেখা রয়েছে, “অনেক কষ্টে নিজের বাড়ির ঠিকানা খুঁজে পেলাম পার্টি অফিসের কাকু-কাকিমাদের সহযোগিতায়। আমাকে আনতে কাকুদের ২৪০০ টাকা খরচ হয়েছে, আমাকে ঘরে নিয়ে কাকুদের টাকাটা দিয়ে দিও”।
এই বিষয় নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। পুরসভার প্যাড এভাবে ব্যবহার করা যায় কী না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই খবর জানাজানি হতেই কাউন্সিলরকে বেশ ধমক দেন পুরপ্রধান পিন্টু মাহাতো। তাঁর কথায়, “পুরসভার কাউন্সিলরের প্যাড পুরসভার কাজে ব্যবহার করার জন্য। এইভাবে ব্যক্তিগত কোন কাজ বা মজা করার জন্য তা ব্যবহার করা যায় না। যে কাউন্সিলর এই কাজ করেছে, তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। আগামী দিন যাতে এই ধরনের কাজ আর না করেন, সেই নিয়ে তাঁকে সতর্কও করা হয়েছে”।
যদিও বিজেপি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কটাক্ষ করার সুযোগ হাতছাড়া করে নি। ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির যুব মোর্চার মুখপাত্র হরি মিশ্র বলেন, “যে চিঠিটি পুরসভার প্যাডে লিখে পাঠানো হয়েছে, তার মধ্যে লেখা রয়েছে কার্তিক ঠাকুরের জন্য ২০০০ টাকা লাগবে। এই থেকে বোঝা যাচ্ছে, তৃণমূল দল এমনই অবস্থায় চলে গিয়েছে, যে তাঁরা কার্তিক ঠাকুরকেও কাটমানি করতে ছাড়ছেন না”।
অন্যদিকে এই বিষয়ে চাঁপদানির বিধায়ক তথা হুগলি শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি অরিন্দম গুঁইন বলেন, “যে ঘটনাটি ঘটেছে তা নিছকই নিজেদের বন্ধুদের মধ্যে মসকরা করতে গিয়ে। এর মধ্যেও বিরোধীরা রাজনীতি খোঁজার চেষ্টা করছেন। তবে পুরসভার প্যাড ব্যবহার করা উচিত হয়নি”।






