এত বড় গাফিলতি! সমস্যা বাঁ চোখে কিন্তু চিকিৎসক অপারেশন করে দিলেন ডান চোখের, ৭ বছরের শিশুর অসহায় অবস্থা

চোখে সমস্যা হয়েছিল। সেই কারণে ৭ বছরের শিশুকে চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান মা-বাবা। সমস্যার কারণে অপারেশন করানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসক। কিন্তু সেখানেই ঘটল বিপত্তি। যে চোখে সমস্যা রয়েছে, সেই চোখে অপারেশন না করে অপারেশন করা হল অন্য চোখে। এমন ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলেন মা-বাবা।

ঘটনাটি ঘটেছে গ্রেটার নয়ডায়। জানা গিয়েছে, যুধিষ্ঠির ভাটি নামের এক ৭ বছরের শিশুর বাঁ চোখে কিছু সমস্যা হয়েছিল। চোখ থেকে অনবরত জল পড়ছিল তার। ফলে মা-বাবা শিশুকে গ্রেটার নয়ডার সেক্টর গামা ১-এ অবস্থিত আনন্দ স্পেকট্রাম হাসপাতালে চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা করে জানান, শিশুর চোখে প্লাস্টিক জাতীয় কিছু ঢুকেছে যা বের করতে অপারেশন করতে হবে।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ীই গত ১২ নভেম্বর চোখেঅপারশ্ন হয় ওই শিশুর। অপারেশনের জন্য ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয় বলে খবর। অপারেশনের পর শিশুকে নিয়ে বাড়ি আসেন মা-বাবা। সেই সময় শিশুর দু’চোখেই ব্যান্ডেজ ছিল। ফলে কিছু বোঝা যায়নি। বাড়ি ফিরে নির্দিষ্ট সময়ের পর চোখের ব্যান্ডেজ খুলতেই মা বুঝতে পারেন, তাঁর সন্তানের যে চোখে সমস্যা ছিল অর্থাৎ বাঁ চোখের বদলে অপারেশন করা হয়েছে ডান চোখে।

এরপরই সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান ওই দম্পতি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই নিয়ে বচসা বাঁধে তাদের। ওই শিশুর মা-বাবার অভিযোগ, চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্মীরা দুর্ব্যবহার করেছেন তাদের সঙ্গে। এই ঘটনায় গৌতম বুদ্ধ নগরের চিফ মেডিক্যাল অফিসারের কাছে অভিযোগ জমা করেন শিশুর মা-বাবা। অভিযুক্ত চিকিৎসকের লাইসেন্স বাতিল ও হাসপাতাল সিল করে দেওয়ার দাবী তুলেছেন তারা। পুলিশেও এই নিয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।     

আরও পড়ুনঃ সারোগেসির মাধ্যমে বাচ্চা জন্ম দিয়ে কলকাতায় চলত শিশু পাচার চক্র, নিঃসন্তান দম্পতির থেকে নেওয়া হত ‘অর্ডার’

এই ঘটনা প্রসঙ্গে ওই শিশুর বাবা নীতিন ভাটি বলেন, “এক সপ্তাহ আগে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলাম। প্রথমে বলেছিল অ্যালার্জি। কিন্তু ওষুধ খেয়েও ছেলের বাঁ চোখ ঠিক হয়নি। এর পর বলা হয় চোখে কিছু ঢুকে রয়েছে। অপারেশন করাতে হবে। ৪৫ হাজার টাকা লেগেছে অপারেশন করাতে। অপারেশনের পর মোবাইলে ছবি তুলে আমাদের দেখানো হয়, চোখে কী ঢুকেছিল”।

RELATED Articles