‘ট্যাবের টাকা বিলির নামে সেই টাকা তৃণমূল নেতাদের পকেটে ঢুকেছে, এটাই তো মমতার চমৎকার’, ট্যাব দুর্নীতি নিয়ে বিস্ফোরক দিলীপ

বর্তমানে ট্যাব দুর্নীতি নিয়ে সরগরম রাজ্য। এই ঘটনায় তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা এসআইটি। এবার এই দুর্নীতি নিয়ে বড় অভিযোগ সামনে আনলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, ট্যাব দুর্নীতির টাকা তৃণমূল নেতাদের পকেটে ঢুকেছে।

আজ, শুক্রবার আসানসোলে বিজেপির সদস্য সংগ্রহ অভিযান কর্মসূচি করেন দিলীপ ঘোষ। সেই কর্মসূচির ফাঁকেই ট্যাব দুর্নীতি নিয়ে ফের একবার তৃণমূলকে একহাত নেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, “শিক্ষা-সহ রাজ্যের অন্যান্য কেলেঙ্কারির মতো ট্যাব কেলেঙ্কারির নেপথ্যেও রয়েছে তৃণমূল। গরিব বাড়ির ছেলেমেয়েদের ট্যাব কেনার সামর্থ্য নেই। তাই তাদের লোভ দেখিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর ট্য়াব বিলির নাম করে সেই টাকা ঢুকে গেল তৃণমূল নেতাদের পকেটে! এটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চমৎকার”।

বিজেপি নেতার দাবী, যদি সঠিকভাবে তদন্ত হয়, তাহলে আসল সত্যি সামনে আসবে। তবে তাঁর এও দাবী, তৃণমূলের জমানায় রাজ্য পুলিশকে দিয়ে তদন্ত করালে আসল সত্যি সামনে আসা সম্ভব নয়। এই ট্যাব দুর্নীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়েই আমফানের পর ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দেওয়া কেন্দ্রীয় টাকা নয়ছয়ের অভিযোগের প্রসঙ্গও টানেন দিলীপ। বলেন, “আমফানের মতো একই ঘটনা ঘটল ট্যাব বিলিতে। টাকা যে দেয় সেও জানতে পারে না, কে পায় সেও জানতে পারে না । মাঝখানে টাকা গায়েব হয়ে গেল”।

বলে রাখি, করোনা পরিস্থিতির সময় বাড়িয়ে বসে অনলাইন ক্লাস করার জন্য একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের জন্য ট্যাব কেনার জন্য ১০ হাজার করে টাকা দেওয়ার প্রকল্প ‘তরুণের স্বপ্ন’ শুরু করেছিল রাজ্য সরকার। সেই অনুযায়ী, এই বছর পুজোর আগে সেই টাকা সরকারের তরফে বণ্টন করা হয়। স্কুলের পক্ষ থেকে পোর্টালে পড়ুয়াদের নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর আপলোড করা হয়।

আরও পড়ুনঃ এলাকার বাড়িতে কার্তিক ফেললেন তৃণমূল কাউন্সিলর, পুরসভার প্যাডেই চিঠি লিখে আবার চাইলেন টাকাও, তুমুল বিতর্ক গোটা পাড়ায় 

কিন্তু কলকাতা-সহ নানান জেলার স্কুলের পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্টেও ঢোকে নি সেই টাকা। কোনও ক্ষেত্রে পড়ুয়ার বদলে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে তো কোনও ক্ষেত্রে আবার অজানা কারণে টাকা ঢোকে নি। এই ট্যাব নিয়ে রাজ্যে প্রায় ২ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় অনেকজনকেই ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মালদহ ও উত্তর দিনাজপুর থেকে গ্রেফতারির সংখ্যাটা বেশি। এবার এই দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূলের দিকে আঙুল তুললেন দিলীপ ঘোষ।

RELATED Articles