প্রথম দফায় ১৫ দিনের পর ফের দ্বিতীয় দফায় ১৫ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায় এটাকে লকডাউন বলার থেকে দৈনন্দিন জীবনে কিছু বিধি-নিষেধ বলা উচিত। আর যেগুলো বিগত ১৫ দিন ধরে মেনে চলার ফলে কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে করোনা সংক্রমণকে। আর সেই কারণেই এই বিধিনিষেধ আরও ১৫ দিনের জন্য লাগু করলেন তিনি। যা যা নিয়ম ১৫ দিন ধরে চলছিল সেগুলোই আসন্ন ১৫ দিনের জন্য বহাল থাকবে । আর সেই পূর্ব নিয়ম মেনেই বন্ধ থাকছে টলিপাড়া। অর্থাৎ শুটিং সেটে গিয়ে শুটিং বন্ধ ।
কিন্তু এত দিনের ব্যাঙ্কিং তো কোনও টেলি-সিরিয়ালেরই করা নেই। তাহলে কি গত বছরের মতো সেই পুরনো এপিসোডই টেলিকাস্ট করা হবে? নাকি এবার ওয়ার্ক ফ্রম হোমের ধাঁচে বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে চালু হবে শুট ফ্রম হোম কনসেপ্ট?
করোনার বাড়বাড়ন্ত দেখে লকডাউন হতে পারে আশঙ্কা করে বিভিন্ন সিরিয়াল কিছুদিনের এপিসোড ব্যাঙ্কিং করে রেখেছিল। যে যে ছোটখাটো শট বাকি ছিল সেই সব শট বাড়ি থেকেই শুট করে পাঠাচ্ছিলেন কিছু কিছু ধারাবাহিকের অভিনেতা-অভিনেত্রী। যেমন এর মধ্যে রয়েছে কৃষ্ণকলি, মিঠাই বিভিন্ন জনপ্রিয় সিরিয়াল।
‘কৃষ্ণকলি’তে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে এই শুট ফ্রম হোম। ‘মিঠাই’-এর বেশ কিছু দৃশ্যের দৃশ্যায়ন বাড়ি থেকেই করে পাঠিয়েছেন শিল্পীরা, এই কথা নিজেই জানিয়েছেন ওই ধারাবাহিকের কেন্দ্রীয় চরিত্র মিঠাই ওরফে সৌমীতৃষা কুন্ডু। তিনি জানিয়েছেন, “ইতিমধ্যেই বাড়ি থেকে কিছু শুট করে পাঠিয়েছি আমি। বাড়ি থেকে শুট করার অসুবিধে তো নিশ্চয়ই রয়েছে কিন্তু দর্শকদের পুরনো এপিসোড যাতে দেখতে না হয় সেই জন্যই এই ব্যবস্থা। গল্পও সাজানো হয়েছে এইভাবেই।”
কিন্তু ১৫ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর আগামী ১৫ দিনের ব্যাঙ্কিং কোনও সিরিয়ালেরই করা নেই প্রায়। তাই এবার টুকটাক শট এর পরিবর্তে পুরোদমে বাড়ি থেকে শুটিং করে পাঠাতে হতে পারে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের।
আরও পড়ুন- কুখ্যাত বলিউড! নায়কের সঙ্গে শুলে কাজ মিলবে, কাস্টিং কাউচ নিয়ে মুখ খুললেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী
আর এখানেই বেঁধেছে গোল।ঝামেলায় জড়িয়েছে প্রোডিউসার্স গিল্ড ও ফেডারেশন। একটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গেছে তারা। শ্যুট ফ্রম হোম নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন প্রোডিউসর্স (ডব্লিউএটিপি)। লকডাউনের সময় বাড়ি থেকে শ্যুটিং চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আশাপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছে তারা। কিন্তু ফেডারেশন-এর বক্তব্য বাড়ি থেকে কাজ করলে বঞ্চিত হচ্ছেন টেকনিশিয়ানরা।
কিন্তু প্রযোজকরা এখন শেষ রাস্তা হিসেবে দেখছেন। পুরনো এপিসোড নয়।বাড়ি থেকে শুট করে নতুন এপিসোড দেখাতেই তাঁরা আগ্রহী। তবে টেকনিশিয়ানদের জন্য তাঁরা ভাবছেন। প্রযোজকরা বলছেন তাঁরা টেকনিশিয়ানদের বাদ দিয়ে কাজ করতে চান না। তাঁদের সঙ্গে নিয়ে কীভাবে তাঁদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করা যায়, তাই নিয়েই চলছে আলোচনা। এমনটাও বলা হয় যে, লকডাউনের মধ্যে যে সময়টা বিধিনিষেধের আওতার বাইরে সেই সময় অভিনেতাদের বাড়িতে গিয়ে ক্রোমা স্ক্রিন টাঙানো, লাইট করে দেওয়ার কাজ টেকনিশিয়ানরা করতেই পারেন। মেক-আপ আর্টিস্টরাও কোভিড বিধি মেনে অভিনেতাদের বাড়িতে গিয়ে মেক-আপ করে আসতে পারেন।





