নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা ঘিরে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। কিন্তু যখন সেই বিতর্ক সরাসরি কোনও প্রার্থীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে, তখন বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় এমনই এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যেখানে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এক প্রার্থী কার্যত নির্বাচনের দৌড় থেকেই ছিটকে যাওয়ার মুখে পড়েছিলেন।
ফরাক্কার কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী মহতাব শেখের নাম এসআইআর প্রক্রিয়ার (SIR Process) সময় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে। ফলে প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারছিলেন না। এই পরিস্থিতিতে তিনি প্রথমে আদালতের দ্বারস্থ হন। জানা যায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বহু নাম যাচাইয়ের জন্য বিবেচনাধীন রাখা হয়েছিল, যার মধ্যে পড়ে যায় মহতাবের নামও।
সমস্যা আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ট্রাইবুনাল গঠিত হলেও কাজ শুরু না হওয়ায় তিনি সেখানে আবেদন করতে পারছিলেন না। বাধ্য হয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টে যান। শীর্ষ আদালত দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয় এবং জানায়, ট্রাইবুনালে আবেদন করা যেতে পারে। সেই নির্দেশ মেনে তিনি সল্টলেকের বিজন ভবনে অবস্থিত ট্রাইবুনালে আবেদন করেন, যেখানে কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের বেঞ্চে তাঁর মামলা ওঠে।
শুনানিতে মহতাব জানান, তাঁর আধার কার্ড, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স সহ বিভিন্ন সরকারি নথিতে তাঁর নাম সঠিকভাবেই রয়েছে। তাঁর আইনজীবীরা যুক্তি দেন, শুধুমাত্র তাঁর বাবার নামের তথ্যে কিছু অসঙ্গতি থাকলেও তা প্রার্থীর নিজের পরিচয়কে প্রভাবিত করে না। কমিশনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। ট্রাইবুনাল পর্যবেক্ষণে জানায়, এই তথাকথিত ‘তথ্যগত অসঙ্গতি’ মহতাবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
অবশেষে ট্রাইবুনাল নির্দেশ দেয়, অবিলম্বে মহতাব শেখের নাম ভোটার তালিকায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এমনকি নির্দিষ্ট করে জানানো হয়, রবিবার রাত ৮টার মধ্যেই অতিরিক্ত তালিকায় তাঁর নাম যুক্ত করতে হবে। এসআইআর ট্রাইবুনালের এটিই প্রথম রায়, যা শুধু এক প্রার্থীর জন্য নয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে ধরা হচ্ছে। এর ফলে নির্বাচনের ঠিক আগে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন কংগ্রেস প্রার্থী এবং তাঁর সমর্থকেরা।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার