হার্ট অ্যাটাকের পর হার্ট অ্যাটাক তাও ১৪ দিনের শিশুর। আমাদের বাংলার বুকে জন্ম নিয়েছে এমন এক শিশু যার ঠিক মতো হার্ট গঠনের আগেই হার্ট অ্যাটাক হয়ে গেছে ছবার। ১৪ দিনের এই শিশুর ফুসফুসে বাসা বেঁধেছে টিউমার। আর এই জটিল রোগ থেকে শিশুটিকে সুস্থ করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়ে আবার নজর কাড়ল আমাদের বাংলার হাসপাতাল এসএসকেএম। সম্প্রতি, এসএসকেএম হাসপাতালে ১৪ দিনের এই সদ্যোজাত শিশুটিকে প্রায় নিথর অবস্থায় নিয়ে আসেন তাঁর মা-বাবা। হাসপাতালে যখন শিশুটি এসে পৌঁছায় তার অবস্থা তখন খুবই আশঙ্কাজনক।
ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারছিল না শিশুটি, তাকে সুস্থ করতে আসেন নিওনেটাল সার্জেন দীপঙ্কর রায়। তিনি আর এক মুহূর্ত দেরি না করে বাচ্চাটাকে ভেন্টিলেশনে পাঠান, এবং যাবতীয় চিকিৎসা শুরু করে দেন। মায়ের গর্ভাবস্থায় থাকাকালীনই শিশুটির ফুসফুসে সিস্ট তৈরি হয়েছিল। সেই সিস্ট বড় হয়ে টিউমারের আকার নেয়।
একবার হার্ট অ্যাটাক হলেই আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। সেখানে দাঁড়িয়ে ১৪ দিনের এই একরত্তির ঠিকমতো হৃদপিণ্ডই গঠন হয়নি। তার ছ বার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছে এই রোগ বিরল নয়। তবে এ রোগে ফানহানের ঝুঁকে থাকে অনেক বেশি। সঠিক সময়ের চিকিৎসা শুরু না হলে রোগীকে বাঁচানো অসম্ভব হয়ে যায়। তাই এসএসকেএম হাসপাতালে ডাক্তারদের কাছে এটা একটি বিরাট বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বাচ্চাটিকে সুস্থ করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া।
এসএসকেএমের নিওনেটাল সার্জেনরা একজোট হয় সিদ্ধান্ত নেন শিশুটির অস্ত্রপ্রচার করবেন। শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য এটাই একমাত্র রাস্তা। ডাক্তার দীপঙ্কর রায়ের নেতৃত্বে বসে মেডিকেল বোর্ড। শিশুটির হার্টের সিটি স্ক্যান করা হয়, সেখানে ধরা পড়ে শিশুটির হৃদযন্ত্র ভালোভাবে তৈরি হয়নি। ফুসফুসে এ যে টিউমারটি রয়েছে তা যথেষ্ট বড় আকারের। এবং তাতে জমে রয়েছে পুঁজ। এরপর ডাক্তারেরা শিশুটির অপারেশন শুরু করে। প্রথমে ফুসফুসের উপর থেকে কেটে বাদ দেওয়া হয় টিউমারটিকে, তারপর চলে বাকি অপারেশন।
শিশুটির জন্মের আনন্দের পর পরই চিন্তায় ছিল শিশুটির গোটা পরিবার। কিন্তু সব যুদ্ধ জয় করে মায়ের কোলে ফিরে এসেছে ছোট্ট একরত্তি। একরত্তির বয়স এখন ৫৩ দিন। এখন একেবারে সুস্থ শিশুটি। সাত দিনের বেশি ভেন্টিলেশনে কড়া অবজারভেশনের পর অবশেষে শিশুটিকে মায়ের কোলে তুলে দিয়েছেন হাসপাতালের ডাক্তাররা।






