নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসছে, রাজ্য রাজনীতির অন্দরে ততই বাড়ছে জল্পনা। প্রকাশ্যে যতটা বক্তব্য, তার চেয়ে ঢের বেশি হিসেব চলছে বন্ধ দরজার আড়ালে। বিশেষ করে শাসকদলের বিরুদ্ধে বিকল্প শক্তি গড়ে তোলার প্রশ্নে বিরোধী শিবিরে যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, তার ইঙ্গিত মিলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। সেই আবহেই সাম্প্রতিক একটি বৈঠক নতুন করে রাজনৈতিক কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছে।
বুধবার শহরের একটি হোটেলে মুখোমুখি বসেছিলেন ভরতপুরের বিধায়ক তথা তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া হুমায়ুন কবীর এবং সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। বৈঠকের পর প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা না বললেও, হুমায়ুন নিজেই জানিয়েছেন যে আলোচনা ছিল ‘ফলপ্রসূ’ এবং ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’। সূত্রের দাবি, প্রাথমিক ভাবে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জোটের রূপরেখা, আসন সমঝোতার সম্ভাবনা এবং মুর্শিদাবাদ-কেন্দ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েই কথা হয়েছে। তবে এই বৈঠকই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়—এ কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন সিপিএম নেতৃত্ব।
দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, যদি বৃহত্তর কোনও মহাজোটের পথে এগোনো হয়, সে ক্ষেত্রে মুর্শিদাবাদের ২২টি বিধানসভা আসন নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। হুমায়ুন কবীর নাকি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই জেলায় ৬টি আসন সিপিএমকে এবং ৬টি আসন কংগ্রেসকে ছাড়তে আপত্তি নেই তাঁর। বাকি ১০টি আসনে লড়াই করতে চায় তাঁর দল জনতা উন্নয়ন পার্টি। যদিও এই প্রস্তাব নিয়ে সিপিএমের অন্দরে আলোচনা হবে বলেই জানিয়েছেন সেলিম। দলের সম্মতি ছাড়া কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না—এই অবস্থানেই রয়েছে আলিমুদ্দিন।
এদিকে সমীকরণকে আরও জটিল করছে মিম (AIMIM)-এর সম্ভাব্য ভূমিকা। সূত্রের খবর, মিমের সঙ্গে জোট নিয়ে আলোচনা কোন দিকে যাবে, তা এগিয়ে নিয়ে যেতে আগামী সপ্তাহে হায়দ্রাবাদ যেতে পারেন হুমায়ুন কবীর। সেখানে আসাউদ্দিন ওয়াইসির সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই মিমের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে দাবি। মালদা ও মুর্শিদাবাদের একাধিক আসনে মিম প্রার্থী দিতে পারে—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এই বিষয়েই আপত্তির কথা হুমায়ুনকে জানিয়েছেন সেলিম, এমনটাই বলছে রাজনৈতিক মহল।
আরও পড়ুনঃ Social media : সোশ্যাল মিডিয়ায় বড় বদলের ইঙ্গিত! প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন আনছে মেটা, কী কী সুবিধা মিলবে?
উল্লেখযোগ্য ভাবে, গত ডিসেম্বরেই জনতা ইউনাইটেড পার্টি গঠন করেছিলেন হুমায়ুন কবীর। তখনই তিনি একাই শতাধিক আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন এবং মঞ্চ থেকে একাধিক নামও প্রকাশ্যে আনেন। পরে অবশ্য সিপিএম ও আইএসএফের সঙ্গে জোটের ইচ্ছার কথাও জানান। এবার সেলিমের সঙ্গে বৈঠকের পর সেই সম্ভাবনা আরও বাস্তবের দিকে এগোচ্ছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন। যদিও চূড়ান্ত ছবি এখনও স্পষ্ট নয়, তবে নিশ্চিত ভাবে বলা যায়—২৬-এর লড়াইয়ের আগে বিরোধী রাজনীতির ময়দানে নতুন অঙ্কের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।





