হিমাঙ্কের নীচে রয়েছে তাপমাত্রা, চারপাশে শুধুই বরফ আর পাহাড়ে ঘেরা—এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পক্ষে এক পা এগোনোও যেখানে বিপজ্জনক, সেখানেই দেখা গেল এক অনন্য মানবিক উদাহরণ। প্রজাতন্ত্র দিবসের ঠিক আগে জম্মু ও কাশ্মীরের পাহাড়ি অঞ্চলে এমন একটি ঘটনা ঘটে, যা প্রকাশ্যে আসতেই সকলের চোখ কপালে উঠেছে। দেশের সুরক্ষায় মোতায়েন সেনা জওয়ানদের জন্য যে সাধারণ মানুষ নিজেদের জীবন বাজি রাখতে পারেন, সেই ছবিই আবার একবার সামনে এল।
ঘটনাটি জম্মু ও কাশ্মীরের ডোডা জেলার গুন্ডানা ব্লকের ফ্রন্ট টপ এলাকার। ভারী তুষারপাতের জেরে প্রায় ১১ হাজার ফুট উচ্চতায় আটকে পড়েছিলেন ২০ জনেরও বেশি ভারতীয় সেনা কর্মী। চারদিকে ৫ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত বরফ জমে গিয়েছিল, তাপমাত্রা ছিল শূন্যের বহু নীচে। এমন পরিস্থিতিতে সেনা পোস্ট থেকে স্থানীয় গ্রামবাসীদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানানো হয়। মুহূর্তের মধ্যে সেই ডাকে সাড়া দেন পাহাড়ি গ্রামের বাসিন্দারা কোনরকম দ্বিধা না করে।
গ্লাভস পরে, হাতে বেলচা নিয়ে শুরু হয় অসম সাহসিক যাত্রা। প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে হয় তাঁদের। গভীর বরফ কেটে কেটে তৈরি করতে হয় সরু পথ, যাতে আটকে থাকা জওয়ানদের কাছে পৌঁছনো যায়। টানা প্রায় পাঁচ ঘণ্টার কঠিন পরিশ্রমের পর দুপুর দেড়টা নাগাদ গ্রামবাসীরা পৌঁছে যান সেনা কর্মীদের কাছে। সেই সময় শারীরিক ক্লান্তি বা নিজের জীবনের ঝুঁকির কথা একবারও ভাবেননি তাঁরা।
এরপর শুরু হয় আরও বড় দায়িত্ব। সন্ধ্যা নামার আগেই সকল সেনা কর্মীকে নিরাপদে বেস ক্যাম্পে ফিরিয়ে আনা হয়। জানা গিয়েছে, এই জওয়ানরা কিশতওয়ার ও ডোডা সীমান্তের ঘন জঙ্গলে ‘অপারেশন ত্রিশি-১’-এর অধীনে মোতায়েন ছিলেন। ১৮ জানুয়ারি কিশতওয়ারের সিংপুরা এলাকায় এক এনকাউন্টারের পর এই অভিযান শুরু হয়েছিল। সেই অভিযানে স্পেশাল ফোর্সের হাবিলদার গজেন্দ্র সিং শহিদ হন, যার পর থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ Humayun and Salim: ২৬-এর সমীকরণে নতুন মোড়, হুমায়ুন–সেলিম বৈঠকের পর বাম শিবিরে জোট জল্পনা তুঙ্গে!
উল্লেখযোগ্যভাবে, একই দিনে আরও একটি বড় উদ্ধার অভিযান চালায় বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন। ভদেরওয়া-চাম্বা রোডের ছত্রগালা টপে, প্রায় ১১,৫০০ ফুট উচ্চতায় বরফে আটকে পড়া ৪০ জন সেনা কর্মী ও ২০ জন সাধারণ নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। প্রায় ৪০ ঘণ্টার কঠিন অভিযানের পর ২৬ জানুয়ারি সকালে সেই মিশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এই দুই উদ্ধার অভিযান আবারও প্রমাণ করল—এই দেশের পাহাড়ি গ্রামগুলিতে আজও মানবিকতা, সাহস আর দেশপ্রেম নিঃশব্দে পাহারা দেয় সীমান্ত।





