আগের একটি মেয়ে রয়েছে। ফের একবার মেয়ে জন্ম দিতে পারে বধূ। এমন আশঙ্কা করেই পাঁচমাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই বধূকে গলা টিপে খু’ন করার অভিযোগ উঠল শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় ওই এলাকায়। ওই বধূর বাপেরবাড়ির তরফে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
কী ঘটেছে গোটা ঘটনাটি?
ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের বাংরুয়া গ্রামে। জানা গিয়েছে, বছর তিনেক আগে কাটিহারের আজিমনগর থানার চান্দপুর গ্রামের বাসিন্দা রেশমা খাতুনের সঙ্গে বিয়ে হয় বাংরুয়া গ্রামের নুরুল আলির ছেলে সুভান আলির সঙ্গে। বিয়ের সময় পণও নেওয়া হয় পাত্রপক্ষের তরফে।
জানা গিয়েছে, ফের আরও ২ লক্ষ টাকা পণের দাবী করেছিল পাত্রপক্ষ। কিন্তু পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক রেশমার বাবা সেই পণ আর দিতে পারেন নি। এর ফলে তখন থেকেই শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার শুরু হয় রেশমার উপর। বিয়ের বছর খানেক পর একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন রেশমা। কিন্তু তাতে মোটেই খুশি ছিল না রেশমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তাঁর স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর উপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার করত বলে খবর।
ফের গর্ভবতী হন রেশমা। বর্তমানে তিনি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। কিন্তু তিনি ফের কন্যাসন্তান জন্ম দিতে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকেই তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর উপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ। এমনকি, সেই আশঙ্কা থেকেই রেশমাকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে খু’ন করে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়।
এই ঘটনার কথা জানাজানি হতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য। অভিযোগ, ময়নাতদন্তের পর গৃহবধূর দেহ তাঁর বাপেরবাড়ির লোকজনদের থেকে ছিনিয়ে নিয়ে জোর করে শেষকৃত্য করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এই ঘটনায় রেশমার পরিবারের তরফে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। এই ঘটনার পর থেকেই বধূর শাশুড়ি ও ননদ পলাতক।





