একচিলতে ছোট্ট ঘরেই তাঁর বাস। সেখানেই থাকেন নিজের পরিবার নিয়ে। আর সেই একচিলতে ঘরেই ইতিউতি ছড়িয়ে রংয়ের বালতি, তুলি, সরা, আরও কত কী! ছড়িয়ে থাকা সরার মধ্যে আঁকা লক্ষ্মীনারায়ণ, শিব-দুর্গা ও আরও কত চিত্র। এক চোখের উপর ভরসা করেই এঁকে চলেছেন তিনি। সংসারের ঘানি টানতে এ এক অক্লান্ত পরিশ্রম!
ফুলিয়ার চিত্তরঞ্জন পালের জীবন চলছে এভাবেই। তাঁর বাবা ও ঠাকুরদাও এই শিল্পের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। তিনিও তাই সেই পথেই হাঁটেন। সংসার এভাবেই মোটামুটি চলে যাচ্ছিল। স্বচ্ছল না থাকলেও দিন কেটে যাচ্ছিল। কিন্তু এরই মধ্যে ঘটে যায় এক বড় দুর্ঘটনা।
বছর দশেক আগে এক দুর্ঘটনার কারণে দৃষ্টিশক্তি হারান চিত্তরঞ্জনবাবু। কিন্তু এদিকে যে সংসারে স্ত্রী-ছেলে রয়েছে। সকলের পেট তো চালাতে হবে। সেই কারণে চোয়াল শক্ত করে এক চোখের সাহায্যেই চালিয়ে যান এই শিল্প। গোটা বছর এই কাজ থাকে না। সেই কারণে একটি চায়ের দোকানও চালান চিত্তরঞ্জনবাবু। তবে এক চোখের সাহায্যেই নিপুণ দক্ষতার সাহায্যে একের পর এক লক্ষ্মীসরা এঁকে চলেন শিল্পী। এরই মধ্যে কিছুটা বাজারে চলে গিয়েছে। কিছুটা আবার যাবে।
চিত্তরঞ্জন পাল বলেন, “১৮ বছর বয়স থেকে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। এই শিল্প এখন শেষের দিকে। একটা চায়ের দোকান চালাই। ছেলেকে কষ্ট করে পড়াশোনা করিয়েছি। ও কোনও চাকরি পায়নি। অভাবের সংসার”।
এক চোখ হারানো নিয়ে আক্ষেপ করে বলেন, “দুর্ঘটনায় একটা চোখ নষ্ট হয়ে যায়। ছবি আঁকতে একটু কষ্ট হয় বইকি। তবে চশমা ছাড়াই আঁকতে পারি। রাতেও অসুবিধা হয় না”।
এক চোখের কারণে কিছুটা আক্ষেপ থাকলেও তাঁর কাজে কিন্তু কোনও খামতি থাকে না। ফের তাঁর সরায় ফুটে উঠবে লক্ষ্মীনারায়ণ, শিবদুর্গা। যত বেশি বাজারে সরা পৌঁছে দিতে পারবেন, তত বেশি লাভ।





