টাকা কম থাকায় ফিরিয়ে দিয়েছিল অর্ডার করা বিরিয়ানি, পথশিশুকে মা’র’ধ’র করে দাঁত ভেঙে দিল দোকানের কর্মীরা

সত্যিই সমাজ কতটা নির্মম হয়ে যাচ্ছে দিনদিন, তা কিছু কিছু ঘটনায় বারবার প্রমাণিত হয়। এক দোকানে বিরিয়ানি অর্ডার করেছিল এক পথ শিশু। কিন্তু অর্ডার করার পর সে বুঝতে পারে টাকা কম রয়েছে তার কাছে। তাই বিরিয়ানি নিয়ে আসতেই তা ফিরিয়ে দেয় সে আর সেটাই তার সবথেকে বড় অপরাধ হয়। বিরিয়ানি ফিরিয়ে দেওয়ায় ওই পথশিশুকে নির্মমভাবে মা’র’ধ’র করে দোকানের কর্মীরা।

কোথায় ঘটেছে এমন নির্মম ঘটনা?

ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি শহরের কদমতলা মোড় এলাকায়। জানা গিয়েছীক রেস্তোরাঁতে গিয়ে বিরিয়ানির অর্ডার দিয়েছিল এক বছর দশেকের পথশিশু। কিন্তু অর্ডার দেওয়ার পর সে বুঝতে পারে যে পর্যাপ্ত টাকা নেই তার কাছে। তাই দোকানের কর্মীরা বিরিয়ানি নিয়ে এলে তা ফিরিয়ে দিয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে আসে সে।

এরপরই দোকানের কর্মীরা ধাওয়া করে ওই শিশুকে। তাকে ধরে ফেলে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মা’র’ধ’র করে ওই পথশিশুকে। দাঁত ভেঙে দেওয়া হয় তার। শিশুর চিৎকার শুনে ছুটে আসে পথচলতি মানুষ। তারা উদ্ধার করে শিশুটিকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশ ও এক স্থানীয় মহিলা সমাজকর্মী। দোকানের দুই কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আর শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয় মেডিক্যাল কলেজে।

কী জানান স্থানীয়রা?

এই ঘটনায় স্থানীয় এক যুবক বলেন, “আমি মন্দিরের সামনে দিয়ে আসছিলাম। দেখি বাচ্চাটাকে মাটিতে ফেলে মারধর করা হচ্ছে। এরপর আমরা সকলে মিলে আটকাই। জানতে পারি বাচ্চাটি বিরিয়ানির অর্ডার ক্যানসেল করায় তাঁকে এভাবে মারা হচ্ছে। অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা”।

জলপাইগুড়ি চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সম্পাদিকা মধুমিতা দাস এই ঘটনায় বলেন, “শিশুটির পরিবারের তেমন কেউ নেই। জলপাইগুড়ি জেলা স্কুল সংলগ্ন এলাকায় তার বাড়ি। মাঝেমধ্যেই এখানে ওখানে ঘুরে বেড়ায়। আমরা তার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করছি। পাশাপাশি কেন সে এভাবে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাও খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করব”।

ওই বিরিয়ানি দোকানের মালিকের বক্তব্য, এই ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি জানান, এই ঘটনার সময় তিনি দোকানে ছিলেন না। আর এর মধ্যেই তার দোকানের কর্মীরা দোকানের বাইরে গিয়ে এমন ঘটনা ঘটালো।

এই ঘটনায় পুলিশ আধিকারিক শ্যামল রায় বলেন, “খবর পেয়ে আমি এসে দেখি বাচ্চাটি দোকানে বসে আছে। দেখি দাঁত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এরপর বাচ্চাটিকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়”।

RELATED Articles