মাধ্যমিক পরীক্ষার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এর ঠিক আগেই হঠাৎই সময়সূচী পরিবর্তনের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয় মামলা। সেই মামলার শুনানিতে সময়সূচী বদলানোর কারণ হিসেবে রাজ্যের যুক্তি শুনে ভর্ৎসনা করলেন বিচারপতি বিশ্বনাথ বসু।
কেন আদালতে মামলা?
এত বছর ধরে ১২টার সময়ই শুরু হয়ে এসেছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। ১১টা ৪৫ মিনিটে দেওয়া হয় প্রশ্নপত্র। ১৫ মিনিট প্রশ্নপত্র পড়ার সময় দিয়ে পরীক্ষা শুরু হয় ১২টায় আর শেষ হয় ৩টের সময়। তবে এবার ১২টার বদলে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে মাধ্যমিক শুরু করার বিজ্ঞপ্তি জারি করে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।
সেই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাকারীদের বক্তব্য, নতুন সময়সূচী অনুযায়ী যদি পরীক্ষা হয়, তাহলে বহু ছাত্রছাত্রী সমস্যায় পড়বে। যারা গ্রামাঞ্চল, পাহাড় বা সুন্দরবন এলাকায় থাকেন, সেসব ছাত্রছাত্রীরা ঠিক সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে পারবে না, এমনটাই আশঙ্কা প্রকাশ করেন মামলাকারী।
কী বললেন বিচারপতি?
এদিন বিচারপতি রাজ্যকে প্রশ্ন করেন, সময়সূচী বদলানোর সঠিক কারণ কেন বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হল না? বিচারপতির প্রশ্ন, “হঠাৎ পরীক্ষা শুরুর ১৫ দিন আগে কেন এই সময় পরিবর্তন করা হল”? উত্তরে রাজ্য জানায়, “রাস্তার যানজট। অফিস টাইমের ব্যস্ততার আগেই যাতে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌছতে পরে, তাই সময় এগিয়ে এনে ৯টা ৪৫ করা হয়েছে”।
রাজ্যের কথা শুনে বিচারপতি বলেন, “বোগাস যুক্তি। হঠাৎ এই বছর, এই সময়ে আপনাদের এটা মনে পড়ল কেন? এইসব ফালতু যুক্তি দিয়ে আপনাদের কর্তারা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন”। বিচারপতি এদিন বলেন, অনেক পরীক্ষার্থীই অনেক দূর থেকে বাসে করে বা প্রত্যন্ত এলাকা থেকে নদী পেরিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে যান। শীতকালে প্রত্যন্ত এলাকার পরিস্থিতি কেমন থাকে, তা রাজ্য ভালোভাবেই জানে। তাই সময়সূচী বদলানোয় বোর্ডকে আগে নিশ্চিত করতে হবে যে কোনও পরীক্ষার্থীর পরীক্ষাকেন্দ্রে সঠিক সময়ে পৌঁছতে যেন কোনও অসুবিধা না হয়।
রাজ্য জানায়, ৩০ জানুয়ারি থেকে একটি নতুন কন্ট্রোল রুম খোলা হচ্ছে। প্রত্যেক জেলার বিডিও, এসআই, জেলাশাসকের দফতরে থাকবে এই কন্ট্রোল রুম। এদিন বিচারপতি নির্দেশ দেন যাতে এই বিজ্ঞাপন করে পড়ুয়াদের এই বিষয়ে ভালোভাবে জানানো হয়।
বিচারপতি এও নির্দেশ দিয়েছেন যে প্রয়োজনে আগামীকাল, শুক্রবার থেকেই হেল্পলাইন নম্বর চালু করতে হবে রাজ্যকে। কোনও পরীক্ষার্থী যদি পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে সমস্যায় পড়ে, তাহলে ওই হেল্পলাইন নম্বরে জানাতে পারবে। পুলিশ তাদের পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। এদিন রাজ্যকে ভর্ৎসনা করে বিচারপতি বলেন, “দায়িত্বজ্ঞানহীন ভাবে এইসব করা হচ্ছে। এটাকে কোনওভাবে সমর্থন করা যায় না”।





