তৃণমূলের (TMC) গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের (inner clash) জেরে ফের উত্তাল পরিস্থিতি। এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে গুলিবিদ্ধ হন এক পুলিশকর্মী। হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাঁকে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল, সোমবার রাতে বসিরহাটের (Basirhat) শাকচুড়া বাজারে। এই ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী (police security)।
শাকচুড়া বাজারের টাকি রোডের উপর তৃণমূলের একটি দলীয় কার্যালয় রয়েছে। সূত্রের খবর, গতকাল, সোমবার রাতে সেখানে সংঘাত বাঁধে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে। প্রথমে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও পরে তা বচসায় পরিণত হয়। হাতাহাতিও হয় দু’পক্ষের মধ্যে।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে সোমবার রাত দশটা নাগাদ খবর পেয়ে গন্ডগোল মেটাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় বসিরহাট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। সেখানে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালানোর অভিযোগও উঠেছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। গুলিতেই জখম হন অনন্তপুর পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল প্রভাস সর্দার। গুলি এসে লাগে ৪২ বছর বয়সি প্রভাসের বাম কাঁধে। পুলিশও শূন্যে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এই নিয়ে এলাকায় যথেষ্ট উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ওই পুলিশ কনস্টেবলকে এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনাস্থলে পুলিশের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে খবর।
এই ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কর্মী ভবতোষ দাস। তিনি এই বিষয়ে বলেন, “গন্ডগোল চলছে খবর পেয়ে আমরা ওখানে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়েছিলাম। আমকা ছ’সাত ঢিল ছোড়ার পর গুলি চালায়। হঠাৎ দেখি আমাদের পুলিশ কনস্টেবল মাটিতে লুটিয়ে পড়েছেন। কিসের জন্য এই গন্ডগোল এবং কেন এই ঝামেলা, তা আমরা জানি না”।
এই ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূল নেতা সিরাজুল ইসলাম-সহ ৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিরাজুল বসিরহাট ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি নজরুল হকের ঘনিষ্ঠ বলে এলাকায় পরিচিত।
এই ঘটনায় তৃণমূল কর্মী কুতুবুদ্দিন গাজী জানান, “আমাদের এক তৃণমূলের নেতা বাজারে ছিল। হঠাৎ করে সিরাজুলের অফিস থেকে বেশ কিছু জন বেরিয়ে এসে তাঁকে মারধর করে এবং বন্দুক দেখায়। আমরা ছুটে গেলে আমাদেরও মারধর করা হয়। আমরা ওখান থেকে সরে আসি। এর পর পুলিশের গাড়ি আসে। সেই গাড়িতে চার জন পুলিশ ছিল। তৃণমূলের অফিসে পুলিশ ঢুকতে যাওয়ার সময় গুলির আওয়াজ শোনা যায়। চার জনের মধ্যে এক জন পুলিশ কর্মী গুরুতর আহত হন। সিরাজুলের ছোট ছেলে বা ভাইয়ের হাতে একটা বন্দুকও দেখা যায়। পুলিশের লাগা গুলি সেখান থেকেই চালানো হয়েছে কি না বুঝতে পারা যাচ্ছে না। এর পর পুলিশের বিশাল বাহিনী এসে তৃণমূলের ওই অফিস ঘিরে নেয়। ওই কার্যালয় থেকে পুলিশ বেশ কয়েকটি বন্দুকও উদ্ধার করেছে। পুলিশ অফিস থেকে সকলকেই আটক করে নিয়ে গিয়েছে। আমরা চাই এই ঘটনার সঠিক বিচার হোক”।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কটাক্ষ করতে ছাড়ে নি গেরুয়া শিবির। বিজেপির দাবী, মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া যে পুলিশের কাজ, সেই পুলিশ নিজেই রাজ্যে নিরাপত্তাহীন। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবী, এই হামলা কারণ আসলে কী, সেই জবাব শাসক দলকে দিতেই হবে।





