‘কাটমানি থেকে শুরু করে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা সব করেছে, গুণ্ডাদের পুষেছে শাসকদল’, রামপুরহাট গণহত্যাকাণ্ডে মমতা সরকারকে তীব্র তোপ AAP-র

সম্প্রতিই মিটেছে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, মণিপুর, ও গোয়াতে গেরুয়া ঝড় উড়লেও, পঞ্জাবের গদি দখল করেছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি। দিল্লি ছাড়াও অন্য একটি পূর্ণরাজ্যে ক্ষমতা গঠনের জেরে জাতীয় রাজনীতিতে আপ-এর গুরুত্ব যে অনেকখানি বেড়েছে তা বলাই বাহুল্য।

এবার বাংলাতেও নিজের জমি শক্ত করতে চাইছ কেজরিওয়ালের দল। এই কারণে গত সপ্তাহেই বাংলায় পদযাত্রা সেরেছে আপ। ধীরে ধীরে বঙ্গ রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। রাজ্যের পঞ্চায়েত ভোটে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে চাইছে আম আদমি পার্টি, এমনটাই জানা যাচ্ছে। এবার এরই মধ্যে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে সুর চড়াল তারা।

গত সোমবার রামপুরহাটের বগটুই গ্রামে তৃণমূল নেতা ভাদু শেখের খুনের পর গ্রামে যে হত্যালীলা চলেছে, তা নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত। গ্রামের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে আর এর জেরে আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে দশ জনের। বিরোধীরা এ নিয়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে সরব হলেও মমতা সরকারের তরফে বলা হয়েছে যে এই মৃত্যুর সঙ্গে নাকি রাজনীতির কোনও যোগ নেই। এই ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে নিন্দার রব উঠেছে নানান মহলে।

এবার এই ঘটনা নিয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করল পশ্চিমবঙ্গের আম আদমি পার্টি। তাদের এই বিজ্ঞপ্তিতে রামপুরহাটের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছে আপ। তৃণমূলের গুন্ডাপোষণ নীতি নিয়েও সরব হয়েছে তারা। এই বিজ্ঞপ্তিতে লেখা হয়েছে, “রামপুরহাটের নৃশংস ঘটনায় যাঁরা স্বজনহারা হলেন, তাঁদেরকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা আমাদের নেই। দুষ্কৃতীরা এই সাহস পায় কি করে? কারণ আমাদের রাজ্য সরকার মুখে বলেছেন মা-মাটি-মানুষের কথা, আর কাজের ক্ষেত্রে চালিয়েছেন দমন নীতি। শাসকের ধর্ম পালন না করে গুণ্ডাদেরকে পুষেছেন; গুণ্ডামিকে ক্রমাগত প্রশ্রয় দিয়ে গেছেন ঠিক পূর্ববর্তী বাম সরকারের মতো। এই রাজ্যে কোনো মানুষের জীবন সুরক্ষিত নয়। কাটমানি, সিণ্ডিকেট রাজ থেকে শুরু করে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা– আক্ষরিক অর্থেই এক আদিম ও অসভ্য অস্তিত্বের অন্ধকার পশ্চিমবঙ্গকে গ্ৰাস করেছে”।

এই ঘটনার সুবিচার চেয়ে তারা লিখেছেন, “আমরা অবিলম্বে এই দুরবস্থার প্রতিকার দাবি করছি। রাজ্যের প্রতিটি মানুষের প্রাণের স্বার্থে, আইনের শাসনের স্বার্থে, এবং এক সভ্য ও স্নিগ্ধ ভবিষ্যৎ সমাজের স্বার্থে প্রশাসন রাজ্যের প্রত্যেক বিধানসভার প্রত্যেক পঞ্চায়েত ও পৌর সংস্থার প্রতিটি নাগরিকের বাঁচার অধিকারটুকু সুনিশ্চিত করুন”।

বাংলায় সংগঠন পোক্ত করার সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছে আপ। আর এবার সরাসরি শাসকদলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বাংলায় যে তাদের ক্ষমতা দখলের বীজ তারা পুঁতে দিল, তা বেশ ভালোই বোঝা যাচ্ছে।

RELATED Articles