আজ, বৃহস্পতিবার কয়লা পাচারকাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) তলব করে ইডি (ED)। হাজিরা দিয়েছিলেন তিনি। ৭ ঘণ্টা জেরার পর ইডি দফতর থেকে বেরিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সম্পর্কে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবী, কয়লা পাচারকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত পলাতক বিনয় মিশ্রের (Binay Mishra) সঙ্গে ৮ মাস আগে ফোনে কথা হয়েছে শুভেন্দুর। চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে অভিষেক এও বলেব যে তিনি যদি মিথ্যে বলেন তাহলে যেন শুভেন্দু তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন।
এদিন অভিষেক বলেন, “পাচার কাণ্ডে অভিযুক্ত বিনয় মিশ্র দ্বীপরাষ্ট্রে রয়েছেন। সে নাকি ফেরার। ৮ মাস আগে ফোনে ওর সঙ্গে কথা বলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। বলেছেন কেস আমি দেখে নেব। আদালত চাইলে অডিও ক্লিপ জমা দিতে রাজি। প্রয়োজন হলে অডিও ক্লিপের ফরেন্সিক পরীক্ষা হোক। প্রমাণ করুন ৫ পয়সা নিয়েছি। আমার সঙ্গে কথা হয়েছে প্রমাণ করুন। কাচের ঘরে বসে ঢিল মারবেন না। আমি মিথ্যে বললে শুভেন্দু মানহানির মামলা করুন”।
এদিন অভিষেক আরও বলেন যে ডিসেম্বরে বিরোধী দলনেতার পদটি আর থাকবে না শুভেন্দুর। বেশ হুঁশিয়ারি শানিয়েই অভিষেক দাবী করেন যে পাচারের টাকা অমিত শাহ্’র কাছে গিয়েছে। তিনি কেন গরু পাচার রুখতে পারলেন না, তা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলেন অভিষেক।
বলে রাখি, নীরব মোদী থেকে শুরু করে মেহুল চোকসি, এদের মতোই বিনয় মিশ্রও পলাতক। সিবিআই সূত্রে খবর, শাস্তির হাত থেকে বাঁচার জন্য ভিনদেশে পালিয়ে গিয়ে সেদেশের নাগরিকত্ব নিয়েছে গরু ও কয়লা পাচার কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত বিনয় মিশ্র। প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুরের নাগরিকত্ব নিয়ে সেখানেই গা ঢাকা দিয়েছেন বিনয় মিশ্র, এমনটাই জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের শুরুর দিকে কয়লা ও গরু পাচার কাণ্ড মামলায় সিবিআইয়ের তৎপরতা দেখে অভিযুক্ত বিনয় মিশ্র বাংলা ছেড়ে মুম্বই হয়ে দুবাইয়ে পালিয়ে যায় বলে শোনা গিয়েছিল। এরপর একাধিকবার ভিনদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করেই বারবার গা ঢাকা দেয় সে। তার ভাই বিকাশ মিশ্রকে সিবিআই গ্রেফতার করেছে। এমন অবস্থায় বিনয়কে গ্রেফতার করতে ইন্টারপোলের কাছে রেড কর্নার নোটিশ জারি করার আবেদন জানায় সিবিআই। সেই মতো রেড কর্নার নোটিশও জারি করা হয়েছে। এরপর দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও বিনয় মিশ্রকে এখনও জালে আনতে পারে নি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।






