Abhishek Banerjee: “প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগে পদত্যাগ করুক” — দিল্লি যাওয়ার আগে বিস্ফোরক অভিষেক

রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের উত্তাপ বাড়ালেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নয়াদিল্লিতে দলীয় সাংসদদের বৈঠকে যোগ দিতে রওনা দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই বিরোধী দলগুলির ‘এসআইআর’ (SIR) নিয়ে আপত্তি, প্রতিবাদ এবং কমিশনের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ শোনা যাচ্ছে। এর মাঝেই অভিষেকের কণ্ঠে এল লোকসভা ভেঙে দেওয়ার সুর।

অভিষেক জানান, আগের দিন বিরোধী দলগুলির মিছিল শান্তিপূর্ণ ছিল এবং তাতে লোকসভা-রাজ্যসভা মিলিয়ে প্রায় ৩০০ জন জনপ্রতিনিধি যোগ দিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল—ডিজিটাল ভোটার লিস্ট প্রকাশ এবং জোরপূর্বক SIR না করার বিষয়ে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট করা। কিন্তু কমিশনের সদর দফতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি সাংসদদের। অভিষেকের অভিযোগ, পুলিশের বর্বর আচরণ ও অতিসক্রিয়তা মানুষ দেখেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, এর আগেও কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রতিবাদে একইভাবে পুলিশের আক্রমণ হয়েছিল।

এই প্রেক্ষিতেই অভিষেক তীব্র কটাক্ষ করে বলেন—যদি কমিশনের সব দাবি মেনে নেওয়া হয়, তবে বলতে হবে এই ভোটার লিস্টের ভিত্তিতেই প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, এবং সেই তালিকার ওপর নির্ভর করেই বিজেপি কয়েকটি রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে। তাঁর বক্তব্য, “ওরা আগে পদত্যাগ করুক, আমরা-ও করব। লোকসভা ভেঙে দিন, নতুন তালিকা তৈরি করে সারাদেশে নির্বাচন হোক।”

তৃণমূল সাংসদের এই মন্তব্যের জবাব দেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০০২-০৩ সালের SIR-এ প্রায় ২০ লক্ষের বেশি নাম বাদ গিয়েছিল। কিন্তু তখন বা তার আগে নির্বাচিত সরকারকে ফেলে দেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্য, বিশেষ ও নিবিড় ভোটার পরিমার্জন বহু বছর ধরেই চলে আসছে। এটি নতুন কিছু নয়, বরং স্বাধীনতার পর থেকেই হওয়া উচিত ছিল একটি সঠিক জাতীয় রেজিস্টার।

আরও পড়ুনঃ Weather: বঙ্গোপসাগরে নতুন নিম্নচাপ, উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টি বৃদ্ধির সম্ভাবনা

শেষে অভিষেক দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তাঁর দাবি, মহিলা সাংসদদের উপর অত্যাচার চালিয়েছে পুলিশ এবং কমিশন বিজেপির ‘কৃতদাস’ হয়ে গিয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—সাংসদদের থানায় বসিয়ে রাখা হয়েছে, অথচ তারা মানুষের প্রশ্ন নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর মতে, বিজেপি দেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে, আর কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

RELATED Articles