দলে যে কেষ্টর পাশে রয়েছে, তা এর আগেও একাধিকবার বুঝিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেতানেত্রীরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে ফিরহাদ হাকিম সকলেই অনুব্রত মণ্ডলের সমর্থনে মুঝে খুলেছেন। এবার বীরভূমের মাটিতে দাঁড়িয়ে ফের একবার তা স্পষ্ট করে দিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
লোকসভা ভোটের প্রায় দোরগোড়ায়। এমন আবহে নানান জেলায় বৈঠক করছেন নানান রাজনৈতিক দলের নেতারা। চলছে মিটিং, মিছিল। আজ, বুধবার বীরভূমের তারাপীঠের একটি বেসরকারি হোটেলে দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। রাজ্যের ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দফতরের মন্ত্রী তথা বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহা, বীরভূম জেলা কোর কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এদিনের এই বৈঠকে। ছিলেন দলের প্রায় ১৯৩ জন কর্মীও।
এই বৈঠকেই অভিষেক (Abhishek Banerjee) নির্দেশ দিয়েছেন যাতে পুরসভা ও পঞ্চায়েত এলাকায় ফলে কোনও নেতিবাচক প্রভাব যাতে না পড়ে সেদিকে নজর রাখার জন্য। তিনি এও বলেছেন, যদি ব্লক স্তরে ভোটের ফল খারাপ হলে, তাহলে নেতাদের পদ ছাড়তে হবে।
এদিন বৈঠক শেষে তিনি মুখোমুখি হন সাংবাদিকদের। সেখানেই অনুব্রত মণ্ডলের প্রসঙ্গ ওঠে। অভিষেকের (Abhishek Banerjee) কথায়, “এবার বীরভূম ও বোলপুর, দুটি আসনেই ভাল ফল করবে তৃণমূল। দুটি আসনেই বাড়বে জয়ের মার্জিন”।
দল যে অনুব্রতর পাশেই রয়েছে, তা বুঝিয়ে দিয়ে এদিন অভিষেক (Abhishek Banerjee) বলেন, “অনুব্রত বিজেপি যান নি, সেই কারণেই জেল খাটছেন তিনি”। এরপরই অভিষেকের দাবী, এখনও বাংলার উপর দিয়ে গরু পাচার চলছে। অনুব্রত যদি বিজেপিতে চলে যেতেন, তাহলে আর তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ উঠত না বলে দাবী অভিষেকের। অর্থাৎ তিনি আকারে-ইঙ্গিতে এটাই বোঝাতে চাইলেন যে রাজনৈতিক কারণেই জেল বন্দি করা হয়েছে অনুব্রতকে।
এর আগের লোকসভা নির্বাচনেও বীরভূমের সমস্ত দায়িত্ব ছিল অনুব্রত মণ্ডলের উপর। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর চড়াম চড়াম মন্তব্য যেন একপ্রকার উদ্বুদ্ধ করেছিল কর্মীদের। তবে এই লোকসভা ভোটে বীরভূম কেষ্টহীন। কিন্তু তা সত্ত্বেও যাতে সেই প্রভাব নির্বাচনে না পড়ে, সেই কারণেই বীরভূমে বাড়তি নজর দিতে উদ্যত তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।





