ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন! পেটে খিদে নিয়েও চালিয়েছেন পড়াশোনা, রাস্তায় মুড়ি বেচে আইআইটিতে ১১৭ র‍্যাঙ্ক আকাশের

আকাশ আলম, এই ছেলেটি রাস্তায় বসে মুড়ি বিক্রি করে। তবে এটা তার পরিচয় নয়। বাংলার এই ছেলে রাস্তায় বসে মুড়ি বিক্রি করে আইআইটি (IIT) জ্যামে ব্রিলিয়ান্ট রেজাল্ট করে চমকে দিয়েছে গোটা দেশকে। এটাই আকাশের একমাত্র পরিচয়। লাল বাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা আকাশের বাবা একজন ভিন রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিক। সংসারে তাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায়। আকাশের মা রোসরানা বিবি একজন সাধারণ গৃহবধূ। আকাশের সংসারে একটি বোন রয়েছে যদিও তার বিয়ে হয়ে গেছে। সংসারের পাশে দাঁড়াতে একপ্রকার বাধ্য হয়ে রাস্তায় মুড়ি বিক্রি করতে বসেন আকাশ আলম।

ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা খুব ভাল ছিলেন আকাশ। শত অভাবের মধ্যেও আকাশ বুঝতে পেরেছিলেন এই অভাবের সাথে লড়াই করতে একমাত্র পারবে পড়াশোনাই। আকাশের পড়াশোনায় হাতেখড়ি বিদ্যাসাগর শিশু নিকেতন থেকে। তারপর বড়মরিচা দেলোয়ার হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করে না আকাশ। তারপর সাইন্স নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন মাথাভাঙ্গা বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দির থেকে। উচ্চমাধ্যমিকেও দুর্দান্ত ফল করেন আকাশ। পেটে খিদে নিয়েও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। ‌

সামাজিক যুদ্ধে লড়ে গেছে তবুও পড়াশোনার হাত ছেড়ে দেননি। উচ্চমাধ্যমিকের পর ও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। আচার্য ব্রজেন্দ্রনাথ শীল কলেজ থেকে বিএসসি পাশ করেন আকাশ। সেখানেও খুব ভালো ফল করেন তিনি। একের পর এক ভালো রেজাল্ট আকাশের পড়াশোনার প্রতি মনোবল বাড়িয়ে তুলেছিল। ছোটবেলা থেকে আকাশ স্বপ্ন দেখতেন আইআইটিতে (IIT) পড়ার। ‌

যার সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় তার সংসারে আইআইটিতে (IIT) পড়ার মতো টাকা কোথায়? তাই আকাশ ঠিক করলেন রাস্তার উপর মুড়ি নিয়ে বসে বিক্রি করবেন। মুড়ি বিক্রির পাশাপাশি তার পড়াশোনা তিনি চালিয়ে গেছেন। রাস্তার উপর একটা ছোট মুড়ির দোকান খুলে বসলেন আকাশ। যখন দোকানে ক্রেতাদের ভিড় থাকত না সে সময়গুলো পড়াশোনার কাজে লাগিয়ে দিতেন তিনি।

সারাদিন পরিশ্রম করে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (IIT) এডমিশন টেস্টে সারাদেশের মধ্যে ১১৭ রাঙ্ক করেন আকাশ। রাস্তায় বসে মুড়ি বিক্রি করা আকাশ আজ গোটা গ্রামের গর্ব। এ সাফল্যে আকাশ ভীষণ খুশি তবে চিন্তার ভাঁজ তার কপালে। এরপরে পড়াশোনার বিপুল অর্থ জোগাড় করবেন কোথা থেকে? ছেলের লেখাপড়ার খরচ নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন আকাশের মাও।

আকাশের মা আবেদন জানিয়েছেন, সরকারিভাবে বা বেসরকারি উদ্যোগে যদি কোন আর্থিক সহযোগিতা তারা পান তাহলে উপকার হয়। আকাশের স্বপ্ন মুম্বাইয়ের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (IIT) থেকে পড়াশোনা করার। তারপর আইআইটিতে শিক্ষকতা করার এই লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে চলেছেন আকাশ আলম। আকাশ আলোড়াই দেখিয়ে দিয়েছে পরিস্থিতি যাই আসুক না কেন তবে ছেঁড়া কাঁথায় শুয়েও অট্টালিকার স্বপ্ন দেখা যায়।

RELATED Articles