বছর ঘুরলেই পঞ্চায়েত নির্বাচন (Panchayet Election)। তবে পঞ্চায়েত নির্বাচনের থেকেপ আগামী লোকসভা নির্বাচন নিয়ে বেশি মাথা ঘামাচ্ছে তৃণমূল (TMC)। ২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে (Lok Sabha) তৃণমূলের পাখির চোখ পূর্ব মেদিনীপুর। সেই কারণে পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে জেলা নেতৃত্বকে কড়া নির্দেশ দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তিনি সাফ জানিয়ে দেন , “দু-চারটে আসন হারলে হারব, কিন্তু ভোটে গা জোয়ারি নয়”।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃণমূল পঞ্চায়েত নির্বাচনের চেয়েও লোকসভা নির্বাচনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আর সেই কারণেই ভোটে কোনও হারজিত নয়, দলীয় সংগঠন মজবুত করতে বেশি জোর দিচ্ছেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। অন্যদিকে আবার, জনসাধারণের কাছে দলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি গড়ে তুলতেও উদ্যত ঘাসফুল শিবির। আর এই কারণেই পঞ্চায়েত ভোটে বারবার গা জোয়ারি করা থেকে সকলকে বিরত থাকতে বলছেন অভিষেক।
পূর্ব মেদিনীপুরের দুটি লোকসভা কেন্দ্র কাঁথি ও তমলুক, দুটিই খাতায় কলমে তৃণমূলের দখলেই। কিন্তু এই দুই লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ অর্থাৎ অধিকারী পরিবারের শিশির অধিকারী ও দিব্যেন্দু অধিকারী দলের সঙ্গে কোনও সম্পর্কই রাখছেন না বলা যেতে পারে। আবার এই অধিকারী পরিবারের ছেলে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপি বিধায়ক ও রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।
এর ফলে আগামী লোকসভা নির্বাচনে যে এই দুই লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল নতুন মুখ আনবে, তা বেশ স্পষ্ট। অধিকারী গড় থেকে কাঁথি ও তমলুক আসনদুটি ছিনিয়ে নেওয়া এখন তৃণমূলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। এই কারণে দলীয় সংগঠনের ভিত শক্ত করতে মরিয়া ঘাসফুল শিবির। এই কারণেই কোনও পেশীশক্তি আরোপ করার উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে অভিষেক।
আজ, মঙ্গলবার ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে তমলুক, কাঁথি সাংগঠনিক জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের বৈঠক শেষে পাঁশকুড়া পশ্চিমের বিধায়ক ফিরোজা বিবি জানান, “দু-চারটে আসনে হারলেও হারব। ভোটে গা জোয়ারি করা যাবে না। অভিষেক পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন”। একই কথা শোনা গিয়েছে সৌমেন মহাপাত্রর গলাতেও। অতএব, অভিষেকের কথা থেকে স্পষ্ট যে এবারের পঞ্চায়েত ভোটে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি চায় না তৃণমূল।





