কেশপুরে সভায় গিয়ে নিজেকে তৃণমূলের পাহারাদার বলে উল্লেখ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে কোনও দাদা-দিদিকে ধরে পঞ্চায়েত নির্বাচনের (Panchayet Election) জন্য টিকিট পাওয়া যাবে না। সাধারণ মানুষ যদি সার্টিফিকেট দেয়, তবেই মিলবে টিকিট। এদিন দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব (inner clash) নিয়ে অভিষেক বলেন, “অদৃশ্য চোখ সবার উপর ঘুরে বেড়াচ্ছে, সবাইকে সচেতন করে দিয়ে যাচ্ছি। পাহারাদারির দায়িত্বে আমি”।
কেশপুরে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে বারবার অভিযোগ উঠেছে। জানা যাচ্ছে, নেতাদের ব্যক্তিগত রেষারেষির জেরে তৃণমূল সংগঠনের ক্ষতি হচ্ছে। যদিও এদিনের এই সভামঞ্চ থেকে অভিষেক দাবী করেন যে দলে কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। তাঁর কথায়, “দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থাকলে আজকের সভায় এত লোক আসত না”। তিনি এও মনে করিয়ে দেন যে ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য দলকে ব্য়ববহার করা যাবে না।
অভিষেকের কথায়, “তিন-চারটে নেতার রেষারেষির জন্য় দল দুর্বল হলে কাউকে ছেড়ে কথা বলবা না। সময় দিচ্ছি শুধরে যান না হলে এমন ওষুধ প্রয়োগ করব যে শোধরানোর সময় পাবেন না”।
সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। আর এই নির্বাচনে কারা টিকিট পাবে, তা সাধারণ মানুষই ঠিক করবেন বলে জানান অভিষেক। এদিন ফের একবার ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ মনে করিয়ে দেন যে যারা আমজনতার জন্য কাজ করেছেন, তারাই প্রার্থী হবেন। তাঁর কথায়, “যারা ৫ বছর ঢেলে মানুষের জন্য কাজ করবে, তারাই পঞ্চায়েতের প্রার্থী হবে। মানুষ সার্টিফিকেট দিলে তবেই মিলবে টিকিট। যারা তা করবে না, তাদের জন্য ব্যবস্থা নেবে দল”।
এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করবেন। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করবেন। আমিও নজর রাখছি। ফাঁক গলে কোনও নাম বেরিযে যাবে, এমনটা ভাববেন না”।
এরপরই অভিষেকের সংযোজন, “কেশপুরে যাঁরা রাজনীতি করেন তাঁরা জানেন, কে সিপিএম, কে বিজেপি, কে তৃণমূল। কে মানুষের পাশে ছিল, কে ছিল না। যাঁরা ভাবছেন যে, তৃণমূলকে ভুল বুঝিয়ে নির্বাচনের সময় এক কাজ করব, আর নির্বাচন পরে আবার জামা পালটে তৃণমূল হয়ে তৃণমূলের চোখে ধুলো দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করতে যা ইচ্ছা তাই করব। অদৃশ্য চোখ সবার উপর ঘুরে বেড়াচ্ছে, সবাইকে সচেতন করে দিয়ে যাচ্ছি। পাহারাদারির দায়িত্বে আমি”।





