‘রাজ্য সরকার যদি চালু না করে, তাহলে আমিই বার্ধক্য ভাতা দেব’, মমতার সঙ্গে ঠাণ্ডা লড়াইয়ের জল্পনা উস্কে দিলেন অভিষেক

তিনি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। নিজের সংসদীয় এলাকায় মানুষকে নিজের পরিবার বলেই মনে করেন তিনি। তাই তাদের সুযোগ-সুবিধার খেয়াল রাখা তাঁর দায়িত্ব। সেই কারণে দায়িত্ব নিয়েই তিনি বললেন যে রাজ্য সরকার যদি বার্ধক্য ভাতা না চালু করে, তাহলে তিনি নিজেই বার্ধক্য ভাতা দেবেন নিজের সংসদীয় এলাকার মানুষদের। জনসভা থেকে এমনই ঘোষণা করলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

কী বললেন অভিষেক?

গতকাল, রবিবার পৈলানে একটি সভা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে লোকসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু করেন তিনি। এদিন ডায়মন্ড হারবার মডেলের সাফল্য তুলে ধরে বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন তিনি। এরই সঙ্গে সেখানকার মানুষদের অভিষেক আশ্বস্ত করেন যে তিনি যতদিন বেঁচে রয়েছেন, ততদিন ডায়মন্ড হারবারের মানুষদের কোনও চিন্তা করতে হবে না। স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা, পরিকাঠামোগত উন্নয়ন সবদিকেই যে ডায়মন্ড হারবার মডেলের জয়জয়কার হয়েছে, তাও জানান অভিষেক। এরই সঙ্গে বার্ধক্য ভাতা নিয়েও বড় ঘোষণা করেন তিনি।

এদিন কেন্দ্র সরকারকে একরকম কটাক্ষ করেই অভিষেক বলেন, “দেশে ১৪০ কোটির মধ্যে আট কোটি মানুষ রয়েছে যাদের বয়স ষাটের বেশি। কেন্দ্র সরকার চাইলে এদের সাহায্য করতে পারে না? তা না করে প্রধানমন্ত্রী বিমান কিনেছে ৮ হাজার কোটি দিয়ে। বিরোধী দলের অনেকে বলছিল কী করে বার্ধক্য দেয়, ইনকাম ট্যাক্স, ইডি নজর রাখবে। কিন্তু আমি যতদিন বেঁচে আছি, মানুষের কাজ আমি করব। তোমার যত ক্ষমতা আছে প্রয়োগ করে আমায় জেলে ঢুকিয়ে দেখাও। যতদিন বাঁচব, আমি আমার এলাকার মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ। ৮, ৯, ১০-এর মধ্যে ৭৬ হাজার ১২০ জন সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বার্ধক্য ভাতার টাকা পেয়ে যাবেন। দু-এক মাস নয়। আজীবন পাবেন”।

এরপরই অভিষেকের সংযোজন, “আমার বিশ্বাস রাজ্য সরকার শীঘ্রই বার্ধক্য ভাতা শুরু করবে। আর রাজ্য কোনও কারণে শুরু না করতে পারলে যতদিন আমি বেঁচে আছি, চিন্তা করতে হবে না”।

এদিন জনসভা থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধেও তোপ দাগতে ছাড়েননি অভিষেক। বলেন, “বাংলায় হেরে গিয়ে বাংলার মানুষের ১০০ দিনের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু আমি যতদিন বাঁচব, কাজ করে যাব। এটা আমার দায়িত্ব”।

আরও অন্যান্য খবর