কোনও আইন নেই বলে প’র’কী’য়া করে পার পেয়ে যাবেন, সেটা কিন্তু হতে পারে না, স্পষ্ট জানাল হাইকোর্ট

আমাদের দেশে ব্যাভিচার কোনও অপরাধের আওতা থেকে মুক্ত। ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ এমনই নির্দেশ দিয়েছিল। কোনও ব্যক্তি প্রথম বিয়ে থাকাকালীন তিনি যদি গোপনে অন্য একটা বিয়ে করেন, তাহলে তা কিন্তু কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না, এমনটা স্পষ্ট জানাল দিল্লি হাইকোর্ট।

আদালতের কথায়, বিয়ে একটি পবিত্র বন্ধন। সঙ্গী বা সঙ্গিনীদের আইনত সুরক্ষা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আদালত জানায়, কোনও ব্যক্তি যদি দুই বিবাহে আবদ্ধ থাকে, তাহলে তার প্রথম স্ত্রীকে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের প্রমাণ জমা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া কিন্তু স্ত্রীর পক্ষে বিপজ্জনক। কারণ প্রথম বিয়েতে থাকাকালীন কোনও ব্যক্তি যদি দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তাহলে তা সাধারণত গোপনেই হয়। আর সেই গোপন বিয়ের আচার-অনুষ্ঠান মেনে বা আইনত নাও হতে পারে, ফলে সেই প্রমাণ দেওয়া প্রথম স্ত্রীর পক্ষে অসুবিধাজনক।  

এক মহিলা ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা, অর্থাৎ, দুই বিবাহ আইনে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন। কিন্তু স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের সেভাবে কোনও প্রমাণ দিতে পারেন নি তিনি। এর ফলে ২০১৯ সালে দায়রা আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়। এরপর সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ ওই মহিলা দিল্লি হাইকোর্টে মামলা করেন।

মহিলার অভিযোগ, তাঁর স্বামী ২০১৫ সালে স্থানীয় পুরোহিত এবং তাদের পরিবারের উপস্থিতিতে অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করেছেন। সেই মহিলার সঙ্গে তাঁর স্বামীর এক কন্যা সন্তানও রয়েছে বলে জানান ওই মহিলা। এমনকি তাদের প্রতিবেশীরাও তাঁর স্বামী ও দ্বিতীয় মহিলাকে বিবাহিত দম্পতি বলেই জানিয়েছেন। তাদের মেয়ের জন্মের শংসাপত্রেও মেয়েটির বাবা হিসেবে তাঁর স্বামীর নাম রয়েছে বলে দাবী করেন মহিলা।

সেই সময় দায়রা আদালত বলেছিল যে ওই মহিলাকে তাঁর স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের আচার-অনুষ্ঠানের প্রমাণ দিতে হবে। কিন্তু সেই প্রমাণ দিতে পারেন নি তিনি। দায়রা আদালত বলেছিল, আবেদনকারী মহিলা কিছু ছবি ও তথ্য প্রমাণ হিসেবে পেশ করেছিলেন কিন্তু তা থেকে এটা প্রমাণ হয় না যে তাঁর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। সেগুলি তারা একসঙ্গে অর্থাৎ লিভ-ইন সম্পর্কে রয়েছে, সেটা প্রমাণ করে।

এরপর মহিলা দিল্লি হাইকোর্টে গেলে সেখান তিনি জানান, দায়রা আদালত তাঁর স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের ও তাদের সন্তানের ছবি উপেক্ষ করে গিয়েছে। এই ছবিগুলি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে ওই মহিলা। অন্যদিকে, মহিলার স্বামী আবার জানান যে তাঁর স্ত্রী যে অভিযোগ করেছেন যে স্থানীয় পুরোহিতের উপস্থিতিতে তিনি অন্য মহিলাকে বিয়ে করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যে অভিযোগ।

তবে দিল্লি হাইকোর্ট আবেদনকারী মহিলার পক্ষেই রায় দিয়েছে। বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা বলেছেন, “যদি কোনও স্ত্রী বা স্বামী, তাঁর সঙ্গীর দ্বিতীয় বিবাহের কোনও অনুষ্ঠানের প্রমাণ দিতে না পারেন, সেই ক্ষেত্রে সেই অক্ষমতাকে আইনি পরিণতি এড়ানোর উপায় হিসাবে অপব্যবহার করা অনুচিত। এটা আশা করা যায় না যে, কোনও স্বামী তাঁর প্রথম স্ত্রীকে জানিয়ে বা তাঁর উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বার বিয়ে করবে। যাতে তিনি তাঁর (স্বামীর) দ্বিতীয় বিবাহের প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারেন”।

RELATED Articles