রটনার জেরেই ভোটের দিন উত্তপ্ত হয় শীতলকুচি, আত্মরক্ষার জন্যই গুলি চালায় কেন্দ্রীয় বাহিনী, সিআইডির রিপোর্টে মিলল নয়া তথ্য

গত ১০ই এপ্রিল বিধানসভা নির্বাচনের দিন বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শীতলকুচি। মৃত্যু হয় কয়েকজনের আর এই মৃত্যুর দাউভার চাপানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর। তবে এবার সিআইডি তদন্তে যে রিপোর্ট সামনে এল, তা অনুযায়ী, আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী, এমনটাই জানা গিয়েছে।

জানা যায়, সেদিন সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ খবর আসে যে ১২৬ নম্বর বুথ থেকে কিছু দূরে ১৪ বছর বয়সী এক যুবক মৃণাল হক অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তা জানার পরই সেখানে যান পুলিশ বাহিনী ও কুইক রেসপন্স টিম। কিন্তু সেই সময় গুজব রটে যায় যে কেন্দ্রীয় বাহিনীই নাকি সেই যুবককে খুন করেছে।

এরপরই সেখানে উপস্থিত হয় ৭০-৮০ জন গ্রামবাসীর একটি দল। তারা দাবী জানাতে থাকে যে কেন্দ্রীয় বাহিনী ওই যুবককে খুন করেছে। কিন্তু এদিকে সিআইডির রিপোর্ট বলছে কুইক রেসপন্স টিমই ওই যুবককে মাথাভাঙা হাসপাতালে ভর্তি করে।

এই গ্রামবাসীদের দলের মধ্যে মিশে থাকা দুষ্কৃতীরা আক্রমণ করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর। কুইক রেসপন্স টিমের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সিআইডির রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই সময় সিআইএসএফ অফিসার দীপক কুমারের নির্দেশেই শূন্যে কয়েক রাউণ্ড গুলি চালায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। তখন পরিস্থিতি খানিকটা নিয়ন্ত্রণে এলেও, এরপর সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ফের উত্তপ্ত হয় শীতলকুচির পরিস্থিতি।

জানা গিয়েছে, প্রায় ৩৫০-৪০০ সশস্ত্র জনতা বুথের বাইরে জমায়েত করে। তাঁদের হাতে ছিল লাঠি, লোহার রড, বন্দুক, বোমা। বুথ চত্বরে ঢুকে পড়ে বাহিনীকে আক্রমণ করে তারা।  ভোটে কর্তব্যরত ভোট কর্মী, হোমগার্ড এবং আশাকর্মীদেরও আক্রমণ করা হয় বলে খবর। এসবের মাঝেই সাব ইন্সপেক্টর গোবিন্দ দাস এবং তাঁর দল ঘটনাস্থলে পৌঁছযন।

কিন্তু তারা সেখানে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই  উত্তপ্ত জনতা চড়াও হয় তাঁদের উপর। ভিড়ের ভেতর থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিসের বন্দুক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠি চালায় পুলিশ। কিন্তু এর জেরে পরিস্থিতি তাতে আরও উত্তপ্ত হয়। প্রায় ৪০০ জনের একটি দল আরও বেশি মারমুখী হয়ে ওঠে৷

সিআইডির রিপোর্ট অনুযায়ী, কেউ কেউ সে সময় বুথের ভেতরেও ঢুকে পড়ে। বুথের ভেতর ছোঁড়া হয় বোমা। এর জেরে ভোটদাতাদের কেউ কেউ আহত হন। হাই কোর্টে জমা পড়া রিপোর্টে সিআইডি জানিয়েছে, এরপরই  আত্মরক্ষার জন্যই ন’রাউন্ড গুলি চালায় কেন্দ্রীয় বাহিনী জওয়ানরা। আর এর জেরে মৃত্যু ঘটনা ঘটে।

আরও অন্যান্য খবর