দু’বছর আগে চীনেই প্রথম হদিশ মেলে করোনা ভাইরাসের। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশজুড়ে তখন লকডাউন ঘোষণা করে চীন। এর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাস। শুরু হয় অতিমারি। তবে চীন সংক্রমণ বেশ ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে আনায় স্বাভাবিক ছন্দে তাদের জীবন ফিরছিল। কিন্তু ফের নতুন করে করোনা সংক্রমণের জেরে থেমে গেল এগিয়ে চলা। এবার সংক্রমণের ছায়া রাজধানী বেজিং-এ। ফের একবার মানুষকে গৃহবন্দি করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে সেখানে।
সম্প্রতি, করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বেজিং-এর শপিং মল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাজধানী জুড়ে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। বেজিং-এর একেবারে কেন্দ্রস্থলে চাওয়াং ও হাইদিয়ানে গত বৃহস্পতিবার নতুন ৬ করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। এরপর তৎপরতা শুরু হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ডোংচেং-এক রাফল সিটি মল। এক করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি ওই মলে এসেছিলেন, এমন খবর সামনে আসার পরই মল বন্ধ করে দেওয়া হয়। সব ক্রেতা ও কর্মীদের করোনা পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বেজিং-এর এক স্বাস্থ্য কর্তার কথায়, শুধুমাত্র হাইদিয়ান ও চাওয়াং-এ সম্প্রতি ১২ হাজার মানুষের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। বেশ অংশ জুড়ে ছড়াচ্ছে ভাইরাস, তাই সামাল দেওয়া কঠিন। একাধিক আবাসন সিল করে দেওয়া হয়েছে, স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের জন্যই করোনার এই নতুন করে সংক্রমণ হচ্ছে বলে মত সে দেশের স্বাস্থ্য কর্তাদের। এক স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানান, আগামীদিনে সংক্রমণ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে করোনা পরীক্ষার হার বাড়ানো হয়েছে। একদল স্থানীয় পর্যটকের মাধ্যমেই এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তর চীনেও প্রায় ১০ হাজার মানুষকে গৃহবন্দি থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আগেই। বাড়তে থাকা উদ্বেগের মধ্যে চিনের একাধিক প্রদেশে গণ হারে করোনা পরীক্ষা করানো শুরু হয়েছে।
শুধুমাত্র চীনই নয়, উদ্বেগ বেড়েছে ফ্রান্সেও। সেখানেও অতিমারির পঞ্চম ঢেউ শুরু হয়ে গিয়েছে। সে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অলিভার ভেরন জানান যে যারা ভেবেছিলেন সংক্রমণ শেষ হয়ে এসেছে, তাদের জন্য এই পরিস্থিতি বেশ কঠিন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান যে তাদের দেশেও বেশ কিছু পড়শি দেশের মতোই অতিমারির পঞ্চম ঢেউ শুরু হয়ে গিয়েছে। ভাইরাস দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে।





