গতকাল, বৃহস্পতিবারই গরু পাচার মামলায় (cattle smuggling case) সিবিআইয়ের (CBI) হাতে গ্রেফতার হয়েছেন বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal)। এরপরই শাসক দলকে নানান ভাবে কটাক্ষ শানিয়ে রাস্তায় নেমেছে বাম-বিজেপি (CPM-BJP)। কেউ কেউ ঢাক-ঢোল বাজিয়ে মেতেছেন উল্লাসে, তো কেউ কেউ আবার গুড়-বাতাসা বিলিয়েছেন পথচারীদের। এহেন পরিস্থিতিতে এবার তৃণমূল নেত্রী ও তাঁর ভাইপোর মধ্যেকার অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে মুখ খুললেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury)।
অনুব্রতর গ্রেফতারি সম্পর্কে তিনি বলেন, “লক্ষ্য করুন দিদির টিমের লোকগুলো গ্রেফতার হচ্ছে, কিন্তু ভাইপোর টিমের লোকজন ছাড়… গরু চুরি একা কেষ্ট করেননি… রাজ্যের পুলিশ জড়িত, বিএসএফ জড়িত… কেষ্টর ঢোল ফেটেছে বলে সব দোষ ওঁর। মুর্শিদাবাদের কোন কোন পুলিস সাহায্য করেছিল…সিবিআই, ইডি ডাকলে অধীর চৌধুরী হাসপাতাল যাবে না…সবে মাত্র চুনোপুটি ধরা পড়েছে, রাঘব বোয়ালরা এখনও আছে”।
এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন তিনি। অধীরের কথায়, “মমতার মদতে জেলায় জেলায় এমন নেতারা সন্ত্রাস করেছে… বীরভূমের সব দুর্নীতির সঙ্গেই উনি জড়িত… যা দেখছেন সবটাই হিমশৈলের চূড়া মাত্র”।
গরু পাচার কাণ্ডে অনুব্রতকে গ্রেফতার করার পর তাঁকে আসানসোলের বিশেষ সিবিআই আদালতে তোলা হয়। আদালত অনুব্রতকে ১০ দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ২০শে আগস্ট পর্যন্ত অনুব্রত থাকবেন সিবিআই হেফাজতে।
আদালতের নির্দেশ, কোনও কারণে স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজন পড়লে, অনুব্রতকে কলকাতার কমান্ড হাসপাতালে দেখাতে হবে। ওই সময় তাঁর দু’জন আইনজীবীকে সঙ্গে রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার বিকেল চারটে বেজে দশ মিনিট নাগাদ বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতাকে গ্রেফতার করে সিবিআই। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০ বি ধারা এবং আর্থিক দুর্নীতি দমন আইনের ৭,১০,১১ এবং ১২ নম্বর ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গতকাল, বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেফতারির পর অনুব্রতকে নিয়ে যাওয়া হয় পশ্চিম বর্ধমানের শীতলপুর গেস্ট হাউসে। সেখানে সিবিআইয়ের গেস্ট হাউসে রাখা হয় তাঁকে। ইসিএল হাসপাতাল থেকে চিকিৎসকরা এসে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এরপর তাঁকে তোলা হয় আসানসোল আদালতে।
এদিন আদালত চত্বরে সকাল থেকেই ভিড় জমিয়েছিলেন বাম-বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। আদালতে অনুব্রতকে দেখেই তারা ‘চোর চোর’ রব তোলেন। ক্রমেই বেড়ে যায় স্লোগানের ঝাঁঝ। কেউ কেউ আবার অনুব্রতর দিকে জুতোও তাক করেন। তবে জুতো ছুঁড়ে মারা হয়নি তাঁকে।





