ঘটনার পুনরাবৃত্তি। সন্দেশখালির ছায়া এবার পড়ল ভূপতিনগরে। সেখানে বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে গিয়ে ইডির মতোই হামলার মুখে পড়তে হল ন্যাশানাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ-র (NIA) আধিকারিকদের। তৃণমূল নেতার বাড়ি তল্লাশি করতে যাওয়ার সময় ঘটে এই ঘটনা।
কী ঘটেছিল ঘটনাটি?
ভূপতিনগরের বিস্ফোরণের ঘটনায় এনআইএ (NIA) বেশ কিছু জনকে নোটিশ পাঠিয়েছিল। কিন্তু হাজিরা দেন নি কেউ। সেই কারণে আজ, শনিবার ভোরে পূর্ব মেদিনীপুর ভগবানপুর ২ ব্লকের ভূপতিনগর থানা এলাকায় নাড়ুয়াবিড়লা গ্রামে সেই গত্নার তল্লাশিতে যান এনআইএ (NIA) আধিকারিকরা। এই তৃণমূল নেতাদের মধ্যে একজন বাদল মাইতি। অভিযোগ, তাঁর বাড়ি যাওয়ার সময়ই হামলা করা হয় আধিকারিকদের উপর।
এদিন এনআইএ-র ৩-৪ আধিকারিকদের সঙ্গে প্রায় ২০-২৫ জনের কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল। ভোর রাতে ওই গ্রামে পৌঁছতেই অতর্কিতে হামলা হয় কেন্দ্রীয় এজেন্সির উপর। উড়ে আসে ইট, গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। বেশ ধবস্তাধস্তিও হয় দু’পক্ষের মধ্যে। তবে এই ঘটনার পরও গ্রেফতার করা হয়েছে বাদল মাইতিকে। মনোব্রত জানা নামেও আরও এক তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ (NIA), এমনটাই খবর।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে ভূপতিনগরে বরএক বিস্ফোরণ ঘটে। বাড়ির ছাদ উড়ে গিয়েছিল। সে বাড়ি এক তৃণমূল নেতার বলে দাবী ওঠে। এই ঘটনায় মৃত্যু হয় ৩ জনের। মৃতদের মধ্যে একজনের স্ত্রীর দাবী ছিল, ওই বাড়িতে বোমা বাঁধার কাজ চলত। এই ঘটনায় হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে এনআইএ তদন্তের জন্য আবেদন জানানো হয়। সেই আবেদনে সাড়া দিয়েই এই ঘটনার তদন্তভার এনআইএ-কে দেয় আদালত। সেই ঘটনায় নাম জড়ায় ১৪ জন তৃণমূল নেতার। তাদের নোটিশও দেওয়া হয় কিন্তু হাজিরা দেন নি তারা। সেই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই এদিন হামলার মুখে পড়েন এনআইএ (NIA) আধিকারিকরা।
এনআইএ আধিকারিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা করে এক স্থানীয় বিজেপি নেতা বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী নিজে কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। সন্দেশখালিতে গিয়ে যে অফিসার আক্রান্ত হয়েছিলেন, রাজ্য প্রশাসন সেই অফিসারের বিরুদ্ধেই অভিযোগ দায়ের করেছিল। রাজ্য জুড়ে প্ররোচনা চলছে”।
অন্যদিকে, এই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে ব্লক তৃণমূল সভাপতি অম্বিকেশ মান্না বলেন, “তৃণমূলের কেউ হামলার সঙ্গে জড়িত নয়। নাড়ুয়াবিলা গ্রামের মহিলারা মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখিয়েছে বলে শুনেছি”।





