সামনেই লোকসভা নির্বাচন। জোরকদমে চলছে নির্বাচনী প্রচার। কোনও দলই একে অপরকে এক ইঞ্চিও জমি ছেড়ে দিতে রাজি নয়। একে অপরকে ধমকানো, চমকানো সবই চলছে। নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে নানান মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। আর এবার ফের আরও এক ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে বসলেন তিনি।
এবারের লোকসভা নির্বাচনে বর্ধমান-দুর্গাপুর থেকে প্রার্থী হয়েছেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। ছেড়েছেন নিজের চিরাচরিত চেনা কেন্দ্র মেদিনীপুর। তবে বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রেও কঠিন লড়াই দিতে প্রস্তুত তিনি। নির্বাচনী প্রচারের মাঝেই এবার উঠে এল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতিশ্রুতির কথা। আর তা নিয়েই বেলাগাম মন্তব্য করলেন দিলীপ।
কী এমন বললেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)?
২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, বিদেশের অ্যাকাউন্টে ভারতের যত কালো টাকা রয়েছে, তা ফিরিয়ে আনলে দেশের প্রত্যেক জনকে ১৫ লাখ করে টাকা দেওয়া যেতে পারে। বিদেশ থেকে টাকা ফেরানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি। আর সেই থেকেই বিরোধীরা বারবার বলে আসেন, মোদী নাকি দেশের সকলের অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ করে টাকা দেবেন বলেছেন। এবার সেই প্রতিশ্রুতি নিয়েই দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) এবার বললেন, “১৫ লক্ষ টাকার অপেক্ষা করে অনেকে তো উপরে চলে গেল! আমরা ১৫ কোটি টাকার কথা বলছি”। তবে এই ১৫ কোটি আদতে কীসের টাকা, তা খোলসা করে বলেন নি দিলীপ।
দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে যদিও কটাক্ষ করতে দেরি করে নি তৃণমূল। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, “নরেন্দ্র মোদীর কাছে কেউ নিজে থেকে টাকা চাইতে যায়নি। তিনি নিজেই দাবি করেছিলেন যে বিদেশ থেকে কালো টাকা ফিরিয়ে আনবেন। এরপর সবার অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ টাকা করে পাঠাবেন। তবে দিলীপ ঘোষ এই ধরনের কথা বলে মানুষকে উত্তেজিত করে তুলছেন”।
প্রসঙ্গত, ভোট প্রচারে বেরিয়ে নানান সময় নানান বিতর্কমূলক মন্তব্য করছেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতৃপরিচয় নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। সেই কারণে নির্বাচন কমিশন শোকজ করে তাঁকে। কিন্তু তাও তাঁর মুখ বন্ধ করা যায় নি।
দু’দিন আগেই প্রচারে বেরিয়ে তৃণমূল কর্মীদের হুঁশিয়ারি শানিয়ে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, “এখনও দাদাগিরি শুরুই করিনি। ওরা এখন টুকঠাক করছে। যেদিন একটা ঘা মারব না! কামারের ঘা ওরা দেখেনি। সিধা হয়ে যাবে সব। যখন সভা করব তখন তৃণমূল দম নিতে পারবে না। ওদের প্রার্থীদের কেউ তাড়া করলে, মার খেলে মন্দিরে যাবে। ঠাকুরের পায়ে পড়তে হলে আগেই ঠাকুরের পায়ে পড়ুন। তাহলে মার খেতে হবে না। পিঠে মারের দাগ নিয়ে আর ঠাকুরের কাছে গিয়ে কী হবে”।





