পেশায় ডোম হওয়ার ‘অপরাধ’ মা-বাবার, তাদের দুই সন্তানকে ভর্তিই নিল না সরকারি স্কুল, বিস্ফোরক অভিযোগ

নানান মানুষের নানান পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকেন। কোনও পেশাকেই ছোটো করা উচিত নয়, যদি তা সঠিক পথে হয়ে থাকে। সেই পেশার দায় তাঁর পরিবারের উপর কেন বর্তাবে। মা-বাবার পেশা দিয়ে কী সন্তানের শিক্ষা বিচার করা যায়। মা-বাবা পেশায় ডোম হওয়ার কারণে তাদের দুই সন্তানকে স্কুলে ভর্তিই নেওয়া হল না, এমনই অভিযোগ উঠল রাজ্যের এক সরকারি স্কুলের বিরুদ্ধে।   

ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার কালীনারায়ণপুরের পাহাড়পুর এলাকায়। সেখানকার বাসিন্দা রবি মল্লিক ও লক্ষ্মী মল্লিক। তারা স্থানীয় এরান্দাপোতা শ্মশানে ডোমের কাজ করেন। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। বয়স ১০ ও ৫ বছর। আগে পাহাড়পুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত তারা।

রবি মল্লিক ও লক্ষ্মী মল্লিকের অভিযোগ, তারা যেহেতু ডোমের কাজ করে এই কারণে তাদের ছেলেদের পাশে স্কুলে নাকি কোনও সহপাঠী বসতে চাইত না। আবার রাতে শ্মশানের কাজে আসতে অসুবিধা হত বলে তারা সম্প্রতি পাহাড়পুর লাগোয়া এরান্দাপোতায় চলে এসেছেন। সেখানে পুরসভা পরিচালিত স্থানীয় এরান্দপোতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছেলেদের ভর্তি করাতে গিয়েছিলেন রবি ও লক্ষ্মী।

কিন্তু অভিযোগ, তারা যেহেতু ডোম, সেই কারণে নাকি তাদের সন্তানদের ওই স্কুলে ভর্তি নেওয়া হয়নি। এই ঘটনার কথা সামনে আসতেই তা নিয়ে তুমুল শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়। এই এলাকাটি রাণাঘাট ১ ব্লকের অন্তর্গত। এই অভিযোগ বিডিও জয়দেব মণ্ডলের কাছে পৌঁছতে তিনি এই বিষয়ে বলেন, “অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট স্কুলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে”।

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য পিঙ্কি হালদার জানিয়েছেন যে তিনি এই বিষয়ে কিছু জানেন না। যে স্কুলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে, সেই এরান্দপোতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আশিস হালদার বলেন, “বাবা-মা ডোম বলে ছেলেদের স্কলে ভর্তি নেওয়া হয়নি, এমন অভিযোগ ঠিক নয়। ওদের ছেলেরা অন্য স্কুলে পড়ত। সেখান থেকে টিসি না নিয়ে এলে কীভাবে ভর্তি করব”?

আরও পড়ুনঃ ‘কলকাতায় একদিনে যা আবর্জনা বেরোয়, সেটা ফেললেই তো…’, বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে পেট্রাপোল সীমান্তে প্রতিবাদ জানিয়ে ইউনুসকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

তবে রবি মল্লিক ও লক্ষ্মী মল্লিকের দাবী, ওই শিক্ষক নাকি মিথ্যে বলছেন। তাদের কথায়, “যেটা সত্যি সেটাই বলেছি। এখন বিপাকে পড়ে প্রধান শিক্ষক কথা ঘোরাচ্ছেন”।

RELATED Articles