শহর হোক বা রাজ্য, দেশের প্রতিটি কোণায় দুর্নীতি যেন ক্রমেই বাড়ছে। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অন্য প্রতিষ্ঠানগুলিতে অবৈধ কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ছে। আর এই দুর্নীতির মাশুল দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। যে ক্ষেত্রে সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখার কথা, সেখানে আজকাল নানা ধরনের অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষত চোরাচালান এবং অর্থপাচার। এই অপরাধমূলক কার্যকলাপের পরিমাণ যেন প্রতিদিন বেড়েই চলেছে।
সোনা পাচার একটি ব্যাপক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে অপরাধীরা অবৈধভাবে সোনা আমদানি ও রপ্তানি করছে। কিছু সময়ে এটি শুধু দেশের অভ্যন্তরেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, এখন এটি আন্তর্জাতিক সীমানায় প্রবাহিত হয়েছে। সোনা পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রগুলি একে অপরকে সাহায্য করে চলছে এবং সাধারণত এ ধরনের অপরাধের নেপথ্যে শক্তিশালী ব্যক্তিদের হাত থাকে। এর ফলে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
এদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার পোলেরহাট এলাকা থেকে এক সন্দেহভাজন সোনা পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্তের নাম অমলেন্দু হালদার, পেশায় ব্যবসায়ী। ২৬ জানুয়ারি তার বাড়ি থেকে সোনা চোরাচালান মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে নগরবাজার পুলিশ স্টেশন। অভিযোগ রয়েছে, অমলেন্দু হালদার চোর মণিরুল ইসলামের কাছ থেকে অবৈধ সোনা কিনত এবং তা অবৈধভাবে বাজারে ছড়িয়ে দিত।
এছাড়া, অমলেন্দু হালদারের বিরুদ্ধে সোনা চুরি ও অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে আটক করার পর আজ তাকে বারাকপুর আদালতে হাজির করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তে আরও তথ্য মিলেছে যা চোরাচালান চক্রের অন্যান্য সদস্যদের অবৈধ কর্মকাণ্ডের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে।
তবে সবচেয়ে বড় চমক এখনও আসেনি। পুলিশ তদন্তে আরও এক ধাপ এগিয়েছে, এবং অমলেন্দু হালদারের বাড়িতে পাওয়া নথিপত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। এটি চোরাচালান চক্রের একাধিক সদস্যের নাম প্রকাশ করেছে। অমলেন্দু হালদারের মৃত্যুর পর এই তথ্যগুলি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং চক্রের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরও ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।





