‘শুভেন্দুকে সাসপেন্ড করলেও বাংলার মানুষকে চুপ করাতে পারবেন না’, ধর্মতলার সভা থেকে মমতাকে হুঁশিয়ারি অমিত শাহ্‌’র

বিধানসভায় এবারের শীতকালীন অধিবেশনে যোগ দিতে পারবেন না রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল, মঙ্গলবারই বিধানসভা থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে তাঁকে। এবার এই নিয়ে আজকের ধর্মতলার সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।  

কী বলেছেন শাহ?

আজ, বুধবার ধর্মতলায় ছিল বিজেপির মেগা সভা। এই সভায় যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন নিজের বক্তব্যের প্রথম থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শানিয়েছেন তিনি। বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশন থেকে শুভেন্দুকে সাসপেন্ড করার প্রসঙ্গে অমিত শাহ বলেন, “কান খুলে শুনুন, শুভেন্দুকে বিধানসভা থেকে বের করতেই পারেন। কিন্তু বাংলার মানুষকে চুপ করাতে পারবেন না। মানুষ বুঝিয়ে দিচ্ছেন দিদির সময় শেষ। এবার পরিবর্তন হবেই”।

অমিত শাহ্‌’র কথায়, “ছাব্বিশ সালে যদি বাংলায় পালাবদল ঘটাতে হয়, তাহলে চব্বিশ সালে এই রাজ্যে নরেন্দ্র মোদীকে জেতাতে হবে। কারণ, নরেন্দ্র মোদীর সরকার যে লক্ষ কোটি টাকা পাঠাচ্ছে, তা বাংলার সরকার লুটে পুটে নিচ্ছে”। 

কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বারবার বঞ্চনার অভিযোগ এনেছে তৃণমূল। এবার বাংলায় মোদী সরকারের অনুদানের খতিয়ান দিয়ে এদিন সভা থেকে অমিত শাহ বলেন, “মমতা দিদি জিজ্ঞেস করেন, মোদীজি বাংলার জন্য কী করেছেন? তা হলে কান খুলে শুনে নিন। ইউপিএ সরকার বাংলাকে ২ লক্ষ কোটি টাকা দিয়েছিল। মোদীজি বাংলাকে ৬ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে গত ৯ বছরে। মোদীজি বাংলাকে একশ দিনের কাজে ৫৬ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। এ ছাড়া অন্য প্রকল্পে ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। রেল প্রকল্পে দিয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা”।

নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা কেন?

বারবার নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিষয়ে অমিত শাহ্‌’র দাবী, “অনুপ্রবেশ রুখতে চাইছে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার। আর এখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড দিচ্ছে। সেই কারণে মমতা দিদি নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করছেন। কিন্তু নাগরিকত্ব আইন হল দেশের আইন। তা বাস্তবায়িত হবেই”। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, এখন বাংলা জুড়ে শুধুই অশান্তি, আর সিন্ডিকেট রাজ। মানুষ এই অশান্তি থেকে মুক্তি চায়। অমিত শাহ বলেন, “আগে বাংলায় রবীন্দ্র সংগীত শোনা যেত। এখন চারপাশে শুধুই বোমার শব্দ”। বাংলায় শান্তি ফেরাতে তাই মমতা সরকারকে উৎখাতের ডাক দিলেন শাহ। বললেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে উপড়ে ফেলুন”।

আরও অন্যান্য খবর