Amit Shah : “দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়”— অমিত শাহের সরাসরি আক্রমণ, তাহলে কি ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী করার দিকেই এগোচ্ছে তৃণমূল?

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে দিন দিন। শনিবার সেই উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বাংলার সফরে এসে একদিকে যেমন সংগঠনের কর্মীদের চাঙ্গা করার চেষ্টা করলেন, তেমনই রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ তুললেন। ব্যারাকপুরের আনন্দপুরী মাঠে বিজেপির কর্মী সম্মেলনে শাহের বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।

ব্যারাকপুরের সভা থেকে অমিত শাহের বক্তব্যের শুরুটা ছিল সাম্প্রতিক আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আনন্দপুরের আগুন কোনও দুর্ঘটনা নয়। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক গাফিলতির ফলেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ২৫ জন মানুষের মৃত্যু হলেও এখনও পর্যন্ত দোষীদের গ্রেফতার না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এমনকি মোমো কারখানার মালিক কার সঙ্গে বিদেশ সফরে গিয়েছিলেন, সেই প্রশ্নও প্রকাশ্যে তুলে ধরে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন শাহ।

এরপর তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরাসরি নিশানা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হলেও মুখ্যমন্ত্রী নাকি কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না। পাশাপাশি তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন—যদি সত্যিই তৃণমূল দুর্নীতির বিরুদ্ধে হয়, তাহলে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, পার্থ চট্টোপাধ্যায়দের মতো অভিযুক্ত নেতাদের টিকিট না দিয়ে দেখানো হোক। তাঁর কটাক্ষ, টিকিট না দিলে তারাই ‘ভাইপো’র নাম বলে দেবে।

সভা থেকে মতুয়া এবং নমশূদ্র সমাজের উদ্দেশেও বার্তা দেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, এই সমাজগুলির ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই এবং বিজেপি তাঁদের পাশে রয়েছে। একইসঙ্গে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে শাহ বলেন, তৃণমূল সরকার সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য জমি দেয়নি বলেই আজও ফেন্সিং সম্ভব হয়নি। আদালতের নির্দেশের পরেও জমি না দেওয়ার পেছনে ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির অভিযোগ তোলেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ মোবাইল নিষিদ্ধ, বহুস্তর নিরাপত্তা—নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার বর্তমান জীবন নিয়ে কী জানালেন আওয়ামি লিগ নেতাদের!

বক্তব্যের শেষদিকে অমিত শাহ আশাবাদী সুরে বলেন, বিজেপি এবার বাংলায় ৫০ শতাংশ ভোট পাবে। তিনি দাবি করেন, এপ্রিল মাসে বিজেপি সরকার গঠিত হলে ৪৫ দিনের মধ্যেই সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার কাজ শুরু হবে। আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ড থেকে শুরু করে অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার উত্তরাধিকার—সব মিলিয়ে ব্যারাকপুরের সভা থেকে রাজ্য রাজনীতিতে স্পষ্ট বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles