পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবার উত্তাপ আরও বেড়েছে। ব্যারাকপুরে এক কর্মীসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এমন মন্তব্য করলেন, যা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। তিনি সরাসরি তৃণমূল শাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে জানান এবং দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের দুর্নীতি সীমার বাইরে চলে গেছে। উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজ্যের মাটি, মানুষ এবং মহিলাদের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য বিজেপি সরকার গঠন অপরিহার্য।
তিনি অভিযোগ করেন, মমতার সরকার দুর্নীতিকে প্রতিষ্ঠান রূপে স্বীকৃতি দিয়েছে। সরকারি নিয়োগ, SSC, পুরসভা নিয়োগ, গরু সংক্রান্ত কার্যক্রম, ১০০ দিনের কাজ, পিএম আবাস যোজনা—সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, এই দুর্নীতি শুধু সিসিটিভি রিপোর্টে নয়, বাস্তব জীবনেও মানুষের ক্ষতির কারণ হয়েছে। তাঁর মতে, এই অবস্থার জন্য তৃণমূলের উচ্চপদস্থ নেতারা দায়ী।
মুখ্য আকর্ষণ এলো শাহের তালিকা থেকে, তিনি স্পষ্টভাবে ১৪ জন নেতার নাম ঘোষণা করলেন, যারা বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে জেল খেটেছেন। এদের মধ্যে আছেন—পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, জীবনকৃষ্ণ সাহা, মদন মিত্র, পরেশ পাল, মানিক ভট্টাচার্য, অজিত মাইতি, চন্দ্রনাথ সিংহ, কুন্তল ঘোষ, আরাবুল ইসলাম, ফিরহাদ হাকিম, শোভন চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ এবং অনুব্রত মণ্ডল। শাহ আরও বলেন, যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নেতাদের টিকিট দেন, তাহলে তাঁরা মুখ খুলে আরও তথ্য প্রকাশ করবে।
অমিত শাহের ভাষণে আরও গুরুতর বার্তা ছিল, তিনি ঘোষণা করলেন বিজেপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করে এক এক জনকে নির্বাচিতভাবে জেলে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা হবে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ, যাতে রাজ্যে সিন্ডিকেট ও গুণ্ডাদের দমন সম্ভব হয়। শাহের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এখনও পশ্চিমবঙ্গকে সম্পূর্ণভাবে ‘মুক্ত’ করতে সন্তুষ্ট নন।
আরও পড়ুনঃ “দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়”— অমিত শাহের সরাসরি আক্রমণ, তাহলে কি ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী করার দিকেই এগোচ্ছে তৃণমূল?
শেষে শাহ বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গকে রক্ষা করেছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, ২১ রাজ্যে বিজেপি সরকার থাকলেও পশ্চিমবঙ্গকে ২২তম রাজ্য হিসেবে জয়ী করতে হবে। এটি হবে শ্যামাপ্রসাদ এবং দেশের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের উপায়। ব্যারাকপুরে এই সভার মাধ্যমে শাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রাজনৈতিক লড়াই এখন শুধু ভোটের নয়, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রতিযোগিতা।





