নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতি এখন উত্তেজনার চূড়ান্ত পর্যায়ে। একের পর এক কর্মসূচি, জনসভা আর প্রতিশ্রুতির লড়াইয়ে প্রতিটি দলই চাইছে ভোটারদের নজর কাড়তে। সম্প্রতি শাসকদল তাদের ইস্তাহার প্রকাশ করার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে। তবে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, সেই প্রতিশ্রুতি কীভাবে জনতার সামনে তুলে ধরা হচ্ছে, সেটাও এখন বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে।
শাসকদল যেভাবে সকাল ঘোষণা করে বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তাহার প্রকাশ করেছিল, বিজেপি ঠিক সেই পথে হাঁটতে চাইছে না। বরং তারা চাইছে ইস্তাহার প্রকাশকে একটি বড় রাজনৈতিক ইভেন্টে পরিণত করতে। দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত, ‘সঙ্কল্পপত্র’ প্রকাশের মুহূর্ত থেকেই যেন তা নিয়ে জোরদার আলোচনা শুরু হয়, সেই লক্ষ্যেই আলাদা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এই পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, ২৭ ও ২৮ মার্চ তাঁর পশ্চিমবঙ্গ সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। আর ২৮ মার্চ কলকাতায় রাজ্য নেতৃত্বকে পাশে নিয়ে তিনিই প্রকাশ করবেন বিজেপির সঙ্কল্পপত্র। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবু দলীয় স্তরে প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত বলেই খবর।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে রায়দিঘির জনসভা। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সেই সভা থেকে অমিত শাহ যে প্রতিশ্রুতিগুলি দিয়েছিলেন, যেমন ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু, ছ’মাসে শূন্যপদে নিয়োগ, চাকরির বয়সে ছাড়,তা নিয়েই শুরু হয়েছিল জোর আলোচনা। বিজেপি নেতৃত্ব বুঝতে পারে, শাহের মুখে ঘোষণার আলাদা গুরুত্ব তৈরি হয়, যা ভোটের আগে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও পড়ুনঃ “আমাকেই ভোট দিতে হবে!” ব্যারাকপুরে নির্বাচনী প্রচারে রাজ চক্রবর্তী! ১ নম্বর ওয়ার্ডে সরাসরি জনসংযোগে নেমে, দিলেন আত্মবিশ্বাসী বার্তা?
জানা যাচ্ছে, সেই প্রতিশ্রুতিগুলিই সঙ্কল্পপত্রে জায়গা পাচ্ছে। পাশাপাশি রাজ্যের জনপ্রিয় প্রকল্পগুলির পাল্টা ভাবনা, কর্মসংস্থান, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে একাধিক ঘোষণা থাকতে পারে। গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন স্তরের মানুষের মতামত সংগ্রহ করে তৈরি হয়েছে এই ইস্তাহার। এখন দেখার, ২৮ মার্চের মঞ্চ থেকে সেই প্রতিশ্রুতি কতটা প্রভাব ফেলতে পারে রাজ্যের ভোটের অঙ্কে।





