প্রসেসিংয়ের দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে সামনে আসতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা। সোমবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের কথা অনুযায়ী, রাত ৯টাতেই অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে এই তালিকা। ইতিমধ্যেই বিধানসভা নির্বাচনের ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় এই তালিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ তুঙ্গে। বিশেষ করে যাঁদের নাম নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল, তাঁদের কাছে এই ঘোষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ৭০০-র বেশি জুডিশিয়াল অফিসার এখনও তালিকাভুক্ত নামগুলি খতিয়ে দেখছেন। মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, তাঁদের ড্যাশবোর্ড অনুযায়ী ইতিমধ্যে প্রায় ২৯ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত বিচারকদের ই-সাইন সম্পন্ন হওয়ার পর ঠিক কত নাম চূড়ান্ত তালিকায় থাকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি, সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে প্রায় ১০ লক্ষ নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রথমে শুধুমাত্র অনলাইনে দেখা যাবে। পরের দিন থেকে প্রিন্ট কপি জেলা নির্বাচন দফতরগুলিতে পাওয়া যাবে এবং পরবর্তীতে বুথ স্তরে তা টাঙিয়ে দেওয়া হবে। ভোটাররা খুব সহজেই নিজেদের নাম যাচাই করতে পারবেন নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে বা ECI NET অ্যাপ ব্যবহার করে। ওয়েবসাইটে জেলা, বিধানসভা ও বুথ নম্বর দিয়ে সার্চ করলে তালিকা পাওয়া যাবে। যদি কারও নামের পাশে ‘ডিলিট’ লেখা থাকে, তাহলে বুঝতে হবে নাম বাদ পড়েছে, আর ‘বিবেচনাধীন’ থাকলে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে, নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, প্রতিটি বুথের দায়িত্বে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং স্থানীয় পুলিশের কোনও ভূমিকা থাকবে না। এছাড়া, ওয়েব ক্যামেরা কাজ না করলে পুনর্নির্বাচনের (রিপোল) সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে কমিশন কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়বে, তাঁদের জন্যও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জেলা শাসকের অধীনে গঠিত ট্রাইব্যুনালে অফলাইনে আবেদন করা যাবে। প্রশাসন সেই আবেদন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আপলোড করবে। ইতিমধ্যেই এই ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রাক্তন বিচারক-বিচারপতিদের যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ, যার মধ্যে আগের তালিকায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছিল। এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ নাম বিচারাধীন রয়েছে। শেষ পর্যন্ত কারা ভোটাধিকার পাবেন, তা নির্ভর করছে এই চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার উপরই,যা এখন রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।





