টলিউড পরিচালক অনীক দত্তের আকস্মিক মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার এবং পরিচিতরা গভীর শোকের ছায়ায় আছেন। ৬৭ বছরের বিপ্রদাসবাবু জানান, তিনি কখনো ভাবতেই পারেননি যে তাঁর ভাগ্নী জামাই অনীক এমনভাবে চলে যাবে। তিনি বলেন, ”মামা ডাকত আমাকে। খুবই ভালোবাসত। দেখা হলে সিনেমা নিয়ে কথা হতো। অনীকের অপরাজিতা ছবির মুক্তি উপলক্ষে ওর কণ্ঠে যে আনন্দ ছিল, সেটা কেউ জানত না, শুধু আমি জানতাম। কিন্তু ওর মনের মধ্যে অনেক ক্ষোভ জমে ছিল।”
প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, অনীক দত্ত ৬ তলার বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে, চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচাতে পারেননি। প্রাথমিক রিপোর্টে দেখা গেছে, শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে, এটি আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে, যেখানে লেখা রয়েছে, ‘মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়’। নোটটি ফরেন্সিকে পাঠানো হয়েছে।
টিভি নাইন বাংলাকে অনীকের মামা বলেন, ”যে সম্মান পাওয়া উচিত ছিল, অনীক কি তা পেয়েছিল? না, সেটা সে পায়নি। এটা আমার কাছে খুবই দুঃখের বিষয়।” তিনি আরও বলেন, ”মানসিকভাবে disturbed ছিল। কোনো কিছুতে খুশি হতো না। বয়স হওয়ায় নিজের ভাবনা অনুযায়ী সে যা চাইছিল, সেটা হয়নি। তাঁর কোনও সিনেমা নন্দনে রিলিজও পায়নি। হয়তো এসবই ওর মনে চাপ সৃষ্টি করেছিল। তবে শান্তিতে ছিল না।”
পরিচালকের একমাত্র কন্যা ঐশী দত্ত বর্তমানে সুইডেনে রয়েছেন। শুক্রবার তিনি কলকাতায় ফিরলে অনীকের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। শারীরিক শেষকৃত্যের আগে পরিচালককে নন্দনে রাখা হবে। এই সময়ে চলচ্চিত্র জগতের অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন। অনীক দত্তের মৃত্যু টলিউডে গভীর ছাপ ফেলেছে এবং তার অনুপস্থিতি অনুভূত হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ শেষের দিকে শারী’রিক অসুস্থতা সত্ত্বেও ‘মাস্টার’ ছিলেন অসাধারণ! সৃজনশীলতার অন্তর্দৃষ্টি থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণের রহস্য, অনীক দত্তর জীবনে কতটা জুড়ে ছিলেন সত্যজিৎ রায়?
পরিচালক অনীকের কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা দিক নিয়ে আলোচনায় এখনো উত্তেজনা আছে। তাঁর প্রিয় ছবি, কাজের প্রতি ভক্তদের ভালোবাসা এবং মানসিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত আছে। অনীক দত্তের অনন্য অবদান টলিউডে দীর্ঘদিন মনে রাখা হবে। পরিবার এবং বন্ধুদের দাবি, যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি, যা বড় শোকের বিষয়। পুরো ঘটনা নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে।






