আমতার নিহত ছাত্রনেতা আনিস খানের খুড়তুতো ভাই সলমন খানের উপর হামলা। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধেই সলমনকে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল, শুক্রবার ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ আমতায় বাড়ির সামনেই হামলা করা হয় সলমনের উপর। এই সলমনই হলেন আনিস হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সাক্ষী। আনিস খানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য-রাজনীতি তোলপাড় হয়েছিল। সেই রেশ না কাটতেই আনিসের ভাইয়ের উপর এই হামলা।
গতকাল, শুক্রবার বেশ রাতেই বাড়িতে ঢুকে সলমনের উপর হামলা করে একদল দুষ্কৃতী। তাঁর ওপর আচমকাই আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ। মাথার পিছন দিক থেকে ধারালো অস্ত্রের কোপ মারা হয়। এর জেরে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন সলমন খান।
সলমনের স্ত্রী তাঁর চিৎকার শুনে ছুটে আসেন। সবাইকে ডাকাডাকি করেন তিনি। তড়িঘড়ি সলমনকে আক্রান্ত অবস্থায় বাগনান হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উলুবেরিয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় সলমনকে। আজ, শনিবার সকালে সলমনকে এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
সলমনের পরিবার অভিযোগ জানায় যে আনিস হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সাক্ষী হওয়ায় এর আগেও সলমনকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে পুলিশে লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল। সলমনের উপর এমন হামলার পর ফের একবার সিবিআই তদন্তের দাবী তুলেছে আনিসের পরিবার। কিছুমাস আগে আনিসের মৃত্যুতে আঙুল উঠেছিল পুলিশের দিকে।
সেই সময় সিট গঠন করে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এর মামলার অন্যতম সাক্ষী হলেন আনিসের এই ভাই সলমন। সলমনই সেই রাতে আনিসকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ লোপাট করার জন্যই সলমনের উপর এই হামলা করা হয়েছে বলে দাবী আনিসের বাবার।
উল্লেখ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয় ছাত্রনেতা আনিস খানের। সেই রাতেই আনিসের বাড়িতে গিয়েছিল পুলিশ। আনিসের মৃত্যু স্বাভাবিক নাকি খুন, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবী জানায় আনিসের পরিবার। তবে আদালতের সিঙ্গল বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের নির্দেশে সিট এই মামলার তদন্ত করে। এমন পরিস্থিতিতে আনিসের ভাইয়ের উপর এমনভাবে হামলা যে কোনওমতেই স্বাভাবিক ঘটনা নয়, এমনটাই দাবী তাঁর পরিবারের।





