‘আমায় ৫ লক্ষ টাকা আর চাকরির প্রলোভন দেখিয়েছিল তৃণমূলের কৌস্তভ রায় ও পুলক রায়’, দাবী মৃত আনিস খানের বাবার

আনিস খান হত্যাকাণ্ডের ৪২ দিন কেটে গিয়েছে। গত মাসে নিজের বাড়িতেই খুন হন ছাত্রনেতা আনিস খান। এই ঘটনায় বারবার পুলিশের দিকে আঙুল তুলে এসেছে আনিসের পরিবার। আনিসের বাবা সালেম খান বারবার দাবী করেছেন যে রাতে তাঁর ছেলেকে খুন করা হয়, সেই রাতে পুলিশ গিয়েছিল তাদের বাড়িতে। আর পুলিশই খুন করেছে তাঁর ছেলেকে।

এই ঘটনায় রাজ্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও সুফল হয়নি। ধরা পড়ে নি আনিসের আসল খুনিরা। এদিকে কলকাতা হাইকোর্টের তরফে এই মামলার তদন্তের জন্য আরও একমাস সময় দেওয়া হয়েছে। আর এতে বেশ হতাশ সালেম খান। তিনি প্রথম থেকেই আনিসের হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য সিবিআই তদন্তের দাবী করে এসেছেন। কিন্তু তা হয়নি।

এরই মধ্যে গতকাল, শুক্রবার সালেম খান একটি দাবী করেন যা বেশ চাঞ্চল্যকর। গতকাল ছিল আনিসের মৃত্যুর জন্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এদিন সকালেই সালেম খানের সঙ্গে দেখা করতে যান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী। দুপুরের দিকে গিয়েছিলেন আইএসএফ নেতা আব্বাস সিদ্দিকি। মৃত্যুর ৪২ দিন পরও আনিস হত্যা মামলার কোনও সুরাহা মিলল না, এই  নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

সালেম খানের কথায়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সিট গঠন করার বলেছিলেন এই মামলার তদন্তের জন্য, সেই সিটের উপর তাঁর কোনও ভরসা নেই। এমনকি তিনি এও জানান, “কৌস্তভ রায়, পুলক রায় এসেছিল। আমাকে ৫ লক্ষ টাকা, দুটো চাকরির প্রলোভন দেখিয়েছেন। বলেছিলেন নবান্নে গিয়ে দেখা করতে। কিন্তু আমি  নবান্নে গিয়ে কি করব, আমার ছেলের খুনিদের শাস্তি চাই। আমি শুধু ন্যায় বিচার চাই”। তাঁর এমন মন্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য রাজনীতিতে বেশ আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে।

উলুবেড়িয়ার তৃণমূল বিধায়ক পুলক রায় ও তৃণমূল নেতা তথা কলকাতা টিভি সংবাদ চ্যানেলের কর্ণধার কৌস্তভ রায় মৃত আনিস খানের বাবাকে টাকার প্রলোভন দেখিয়েছেন, এই ঘটনা বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করার মতোই। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে কেন প্রলোভন? সিট যখন তদন্ত করছে, তারপরও কেন এই টাকা ও চাকরি দেওয়ার কথা? তাহলে কী শাসকদলের তরফে এই মামলাকে ধামাচাপা দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে?

এই মামলায় ধৃত এক সিভিক ভলান্টিয়ার ও এক হোমগার্ড আগেই দাবী করেছিলেন যে তাদের গ্রেফতার করে আনিস খানের মৃত্যুর আগুনে জল ঢালা হচ্ছে। তাদের ‘বলির পাঠা’ করা হচ্ছে। সেই দাবীই কী তবে ঠিক? বাড়ছে রহস্য। এদিন আনিস খানের বাবা এও জানান যে রাজ্য সরকারের উপর তাঁর আস্থা নেই কারণ প্রশাসনই যখন তাঁর ছেলেকে খুন করেছে, তাহলে তিনি সরকারের উপর ভরসা করবেন কীভাবে। এখন এটাই দেখার যে আদৌ আনিস খানের আসল দোষীরা শাস্তি পায় কী না!

RELATED Articles