বাম আমলেও বীরভূমের নানুরের গণহত্যা কাণ্ড নিয়েও গোটা রাজ্যে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। তবে গতকাল বীরভূমের রামপুরহাটের ঘটনা যেন সবকিছুকে ছাপিয়ে গেল। মৃত্যুমিছিল এখন বগটুই গ্রামে।
গতকাল, সোমবার সন্ধ্যায় খুন হন তৃণমূল নেতা ভাদু শেখ। আর এরপরই কার্যত তৃণমূলের তাণ্ডব শুরু হয় বগটুই গ্রামে। রাতভর একের পর একে বাড়িতে লাগিয়ে দেওয়া হয় আগুন। পোড়া সেইসব বাড়ি থেকে এখনও পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে ১০টি অগ্নিদগ্ধ দেহ। আর এই ঘটনায় বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল যে মন্তব্য করলেন, তাতে মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অনুব্রতর কথায়, “তিন-চারটি বাড়িতে আগুন লেগেছিল। টিভি ফেটে আগুন লাগে। দমকল, পুলিশ গিয়েছিল। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক, তারপর বলব”। তবে তাঁর মতে, তৃণমূল নেতা তথা উপপ্রধানের খুনের সঙ্গে এর যোগ থাকতে পারে। তাঁর কথায়, “গতকালের ঘটনার সঙ্গে এর যোগ থাকতে পারে। পুলিশ তদন্ত করুক। আমি তো ওখানে ছিলাম না। আমি সকালে খবর পেয়েছি। আমি যতদূর খবর পেয়েছি, একটি বাড়িতেই সাতজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে”।
এই ঘটনাকে আবার তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ‘স্থানীয় গ্রাম্য বিবাদ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “রামপুরহাট ঘটনায় সরকার তৎপরতার সঙ্গে কাজ করছে”। একটি টুইট করে তিনি লেখেন, “দুর্ঘটনা, না আগের খুনের প্রতিক্রিয়া, না ষড়যন্ত্র সবটা খতিয়ে দেখা হবে। তবে এই আগুনের ঘটনায় রাজনীতি নেই”।
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, অগ্নিদগ্ধ হয়ে ১০ জন মারা গিয়েছে। কিন্তু তাদের দাবী যে মৃতের সংখ্যা কম করে বলা হচ্ছে। দাবী, অনেক দেহই রাতে লোপাট করে দেওয়া হয়েছে। বগটুই গ্রামের এক বাসিন্দা সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, বাড়িগুলিতে এমন সময় আগুন লাগানো হয়েছে যাতে ঘুমন্ত অবস্থায় পুড়ে মারা যায়। বাড়ির লোক যখন আগুন লাগার ঘটনা টের পেয়েছে, ততক্ষণে আর বেরোবার পথ ছিল না। জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকটি শিশুও অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গিয়েছে।
এই ঘটনায় রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা করেছে বিজেপি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ দাবী করেছেন। এমনকি, রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনেরও দাবী তুলেছেন তিনি। অন্যদিকে, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের দাবী তুলেছেন।





